বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সারা দেশে ইন্টারনেট নিয়ে দুঃসংবাদ দিল বিএসসিসিএল শজনে ভেবে লাজনা খাচ্ছেন কি? দুটির পার্থক্য জেনে রাখুন অস্তিত্ব হারাতে বসেছে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯: বঞ্চিত তথ্য প্রত্যাশীরা হতাশ রাজশাহী মেডিকেলে আইসিইউর অপেক্ষায় এক মাসে ৯১ শিশুর মৃত্যু নওগাঁর পোরশায় কর্মচারি দিয়ে এক্স-রে পরিচালনা, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী ৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬৬ কোটি ডলার তামিমকে প্রধান করে বিসিবির অ্যাডহক কমিটি গঠন, ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন ৩ মাসের মধ্যে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় করার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দ্য গার্ডিয়ানের সম্পাদকীয়: ইরানে ট্রাম্পের মহাবিপর্যয় ঘটানোর হুমকি ক্ষমতার নয়, বরং নৈতিক ও কৌশলগত দুর্বলতার লক্ষণ ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৩৬৩১ প্রার্থী

অস্তিত্ব হারাতে বসেছে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯: বঞ্চিত তথ্য প্রত্যাশীরা হতাশ

  • আপডেট সময় বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২.৪৯ পিএম



স্টাফ রিপোর্টার॥



অস্তিত্ব হারাতে বসেছে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯। নতুন করে কমিশন গঠন না হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়েছে তথ্য কমিশনের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে শুনানী না হওয়ায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৭ শতাধিক অভিযোগ। এদিকে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন তথ্য প্রত্যাশী আবেদনকারীরা। তারা বঞ্চিত হচ্ছেন তথ্য অধিকার আইনে সুবিধা থেকে। বিপরীতে কমিশনের নিষ্কৃয় ভূমিকার সুযোগে ফায়দা লুটছেন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাগণ। তথ্য প্রদান না করে দুর্ণীতি-অনিয়মকে আড়াল করে পার পেয়ে যাচ্ছেন তাদের অনেকেই। সবচেয়ে বেশী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। বেশীর ভাগ সময় তারা মৌখিকভাবে তথ্য চেয়ে পাচ্ছেন না। অপরদিকে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও কোন কাজ হচ্ছে না, কারণ কমিশন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না দীর্ঘদিন ধরে। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলতেও চাচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কৌশলে অনেকটা এড়িয়ে যাচ্ছেন তারা।
২৪ এর ৫ আগষ্টের আগে থেকেই শুরু হয়েছে এই অবস্থা। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগষ্টের পর যে সকল অভিযোগ কমিশনে জমা পড়েছে, তার একটিরও শুনানী হয়নি আজ পর্যন্ত। ফলে তথ্য প্রত্যাশিরা পড়েছেন বিপাকে।
ধারণা করা হচ্ছে, নতুন করে তথ্য কমিশনার নিয়োগ দেয়া হলেই হয়তো এই দপ্তরের কার্যক্রম পুনরায় গতি ফিরে পাবে।
উল্লেখ্য, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ (২০১৯ বা অন্যান্য সংশোধনী সহ) এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা [১, ৭]। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত হবে, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি হ্রাস এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে [১, ৩, ৭]।
তথ্য অধিকার আইনের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা: নাগরিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা, যাতে তাদের চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয় [১, ১৩]।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি: সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্তৃপক্ষের কাজের জবাবদিহিতা জনগণের কাছে নিশ্চিত করা [৩, ৭]।
দুর্নীতি হ্রাস ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা: তথ্য পাওয়ার ফলে প্রশাসনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়, যা দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে [৭, ১১]।
নাগরিক ক্ষমতায়ন: জনগণের সঠিক তথ্য জানার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা [১১]।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ: একটি অবাধ ও স্বচ্ছ তথ্য ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ায় [৩, ১১]।
সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণ: বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করা [১, ১৩]।
মূলত, এই আইনটি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য গোপন করার মানসিকতা পরিবর্তন করে তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা তৈরি করে [৬]। কিন্তু, বর্তমানে তথ্য কমিশনের কার্যক্রমে গতিহীনতার কারণে তথ্য প্রাপ্তীর অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছে তথ্য প্রত্যাশীরা।
এ ব্যাপারে তথ্য কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা লিটন কুমার প্রামাণিক (প্রচার ও প্রকাশ/ অতিরিক্ত দায়িত্ব) জানান, আমি গত ১৫-২০ দিন আগে ৬৭০ টি অভিযোগ জমা পড়ার কথা জেনেছিলাম। বর্তমানে সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেছেয়ে। অভিযোগগুলো শুনানী না হওয়ায় নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। ফলে তথ্য প্রত্যাশীরা প্রকৃত সেবা ও তথ্য পাওয়ার অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছে। আশা করি, নতুন কমিশন গঠন করা হলেই পূণরায় কার্যক্রম শুরু হবে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তথ্য কমিশনের সচিব মো: ইয়াসিন-এর সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি।
ভুক্তভোগী তথ্য প্রত্যাশীরা অনতিবিলম্বে নতুন তথ্য কমিশন গঠন এবং তথ্য প্রত্যাশী আবেদনকারীগণের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পতির আহবান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com