শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ব্যাংকে অডিট চলাকালে ম্যানেজারের ‘আত্মহত্যা’, নেপথ্যে কী? থানায় ৩ অডিট সদস্য শাহজাদপুরে কোটি টাকার খাস জমি জবরদখল: অভিযান চালিয়ে সরঞ্জাম জব্দ করল প্রশাসন ১৭ বছরে অর্থনীতি ধ্বংস করে গেছে স্বৈরাচার, পুনরুদ্ধারে লড়ছে সরকার: শামা ওবায়েদ নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হলেন কোয়েল মল্লিক গরু ‘চুরি’ করে ছেলের বউভাত: গ্রেপ্তার বাবা ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত জামিন নামঞ্জুর, আখতারুজ্জামান কারাগারে ২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা রাজধানীর বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সওজের মদ্যপ প্রকৌশলীকে ঘিরে বিতর্ক, সরকারের ভাবমূর্তি  ক্ষুন্নের অভিযোগ

আইডিবি’র অর্থায়নে পরিচালিত ডিপিএইচই-এর প্রকল্পের কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে

  • আপডেট সময় শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ৯.২৪ পিএম
ডিপিএইচই-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান


নির্ধারিত সময়ে স্যানিটেশন ও হাইজিন প্রকল্প সম্পন্ন করা নিয়ে অনিশ্চয়তা



স্টাফ রিপোর্টার॥



সিরাজগঞ্জ শহর সংলগ্ন বনবাড়িয়া এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) কর্তৃক বাস্তবায়িত পয়ঃবর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অবহেলার কারণে।

ফলস্বরূপ, স্থানীয় সচেতন জনগণের মধ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রকল্পের চিত্র

সিরাজগঞ্জের ডিপিএইচই-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান নির্মাণ কাজের প্রায় ৪০ শতাংশ অগ্রগতি দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে দাবী করেছে অভ্যন্তরীণ সূত্র।

সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ডিপিএইচই-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামানের সহযোগিতায় এক বছরে মাত্র ৫ থেকে ৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে ১৩ কোটি ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ২৯৬ টাকার (চুক্তি মূল্য) বিলের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ তুলে নিয়েছে। এখন ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন করা দূরুহ ব্যাপার। কাজটি ১ জানুয়ারী, ২০২৫ তারিখে শুরু হয়েছিল।

ল্যাট্রিনের দরজা নেই, তদারকি না থাকায় খুলে নিয়ে গেছে স্থানীয়রা

সরকার ডিপিএইচই-এর তত্ত্বাবধানে এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) এর অর্থায়নে “বাংলাদেশের ১০টি অগ্রাধিকারমূলক শহরে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমন্বিত স্যানিটেশন এবং হাইজিন প্রকল্প” শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের আওতায় সরকার সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের উপকণ্ঠে বনবাড়িয়া এলাকায় ১ নম্বর মলমূত্র এবং ১ নম্বর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট/সিস্টেম নির্মাণের জন্য ১৩১,৮৯৯,২৯৬ টাকা বরাদ্ধ দেয়। ডিপিএইচই ঢাকা ভিত্তিক নির্মাণকারী সংস্থা মেসার্স নূর অ্যান্ড কোং- কে কাজের আদেশ দেয়।
একটি সরেজমিন পরিদর্শনের সময়, এই প্রতিবেদক দেখতে পান যে, সিরাজগঞ্জ-কড্ডা সড়কের পাশে একটি গেট এবং ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে এবং প্রকল্পস্থলে একটি অফিস কক্ষ সহ কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তবে যত্নের অভাবে বেশিরভাগ অবকাঠামো ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ল্যাট্রিনের দরজা ভেঙে গেছে। সেখানে কিছু নির্মাণ যন্ত্রপাতি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরিদর্শনের সময় নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কোনও কর্মী বা প্রতিনিধিকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পৌরসভার বর্জ্য এবং আবর্জনা ফেলার কারণে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয় বাসিন্দা এবং যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায়। মানুষ মুখে মাস্ক পরে এবং নাক ঢেকে ঐ এলাকায় যাতায়াত করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে, সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের ডিপিএইচই-এর একজন সহকারী প্রকৌশলী বলেন, “প্রকল্পটি কেন্দ্র করে অনেক সমস্যা রয়েছে। ঢাকা ভিত্তিক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কাজটি পরিচালনা করছে এবং এর অগ্রগতি নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। তাছাড়া, ডিপিএইচই-এর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনও যথাযথ তদারকি নেই। অতএব, ব্যাপক অবহেলার মধ্যে কাজটি কচ্ছপের গতিতে চলছে। কিন্তু, এখানে অসঙ্গতিগুলি দেখার জন্য কেউই নেই।”

ফটোকার্ড ডাউনলোড

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com