মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

আইফোন নিতেই অপ্রতিমকে মাথায় আঘাত করে হত্যা: পুলিশ

  • আপডেট সময় রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩.২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা প্রতিনিধি॥



কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) কাছে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তারা।

তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে আমরা জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করি। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হই যে, ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখি ও পর্যালোচনা করি। এতে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার আগেই আমরা হেফাজতে নেই।

আনিসুজ্জামান বলেন, একটানা জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন আমাদের কাছে স্বীকার করে যে, অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশেই পরিকল্পনা করে সে তাকে ওই নির্জন ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। তুহিন আরও জানায়, এ ঘটনায় ফাহাদ এবং ফাহাদের এক বন্ধু জড়িত ছিল। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি এবং ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি।

জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার আরেক বন্ধু কামরুলও জড়িত। ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কামরুলকে হেফাজতে নেই।

পুলিশ সুপার বলেন, তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে, প্রথমে সে আমাদের ভুল পথে পরিচালিত করেছিল। আইফোনটি উদ্ধারের জন্য আমরা তিন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করি। কোথাও না পাওয়ার পর অবশেষে তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে তার বাসায় অভিযান পরিচালনা করি। সেখানে তার দেখানো স্থান থেকে আইফোনটি আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হই।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, ঘটনার দিন বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় প্রথমে তুহিন এবং পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। একপর্যায়ে অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হলে তুহিন আইফোনটি নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ছাড়া আমরা সিয়াম নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করেছি। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছি।

জেলা পুলিশ সুপার বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে এই হত্যা মামলায় গ্রেফতার করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে যাচ্ছি। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুতই পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা আদালতের কাছে আবেদন রাখব, লামিসা হত্যার মামলাটি যেমন দ্রুত রায় এসেছে, এ মামলাটিও যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়।

ফটোকার্ড ডাউনলোড

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com