বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

বাড়ছে বেকার, বাড়ছে অপরাধ

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭.১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ডাকাতি-২০২৪ প্রতি মাসে গড় মামলা ৪১টি, ২০২৫ সালে ৫৯টি এবং ২০২৬ সালে ৪৫টি

ছিনতাই-২০২৪ সালে গড় মামলা ১১৭টি, ২০২৫ সালে ১৭৩টি, ২০২৬ সালে ১৫২টি

খুন- ২০২৪ সালে প্রতি মাসে ২৮৭টি, ২০২৫ সালে ৩১৫টি, ২০২৬ সালে ২৯৭টি

অপহরন-২০২৪ সালে প্রতি মাসে ৫৪টি, ২০২৫ সালে ৯২টি, ২০২৬ সালে ৮৬টি

চুরি-২০২৪ সালে গড় মামলা ৭২২টি, ২০২৫ সালে ৮০৬টি এবং ২০২৬ সালে ৮০৫টি

  • ৮ মাসে বন্ধ ৯৫ কারখানা -সিপিডি
  • দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখেরও বেশী-বিবিএস

 



বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা॥



গত কয়েক বছর ধরে দেশে একের পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কলকারখানা। হ্রাস পাচ্ছে উৎপাদন। বেড়ে গেছে জীবনযাত্রার ব্যায়। বেকারত্বে কষাঘাতে লাখো মানুষ। কাজের সন্ধানে রাজধানীমুখী হচ্ছে শ্রমজীবীরা। বেকারত্বের বিপরীতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চুরি,ছিনতাই,ডাকাতিরমত অপরাধগুলো।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অনেক ব্যবসায়ী, শিল্পপতী এবং রাজনৈতিক নেতারা গা ঢাকা দেন। এর অগেই তারা লুট করে বিদেশে পাচার করে ফেলেন হাজার কোটি টাকা। লুটেরা ও ঋন খেলাপি এসব মালিকদের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্টান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বেকার হয়ে পড়েন অনেকে। সেইসাথে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সর্বশেষ দেশে তীব্র জবালানী সঙ্কটও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে দেশের অঅর্থ-সামাজিক অস্থিরতায়।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর ভেঙ্গে পড়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। পালিয়ে যায় উর্ধ্বতন অনেক পুলিশ কর্মকর্তা। ভেঙ্গে পড়ে পুলিশের মনোবোল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠার চেষ্টা চলছে। কিন্তু পুরোপুরি আস্থায় ফেরা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পেশাদার ও মৌসুমী অপরাধীরা। সেইসাথে ৫ আগস্টের পর অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জেল থেকে জামিন লাভের পর নিয়ন্ত্রন নেয়ার চেষ্টা করছে অপরাধ জগত। সেইসাথে গত ফেবুয়ারীতে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর অনেক স্থানে এলাকা দখলে প্রতিযোগীতা চলছে। রাজনৈতিক লেবাসে অনেকে বিস্তার করছে চাঁদাবাজির ক্ষেত্র। এতে প্রতিদ্বন্ধিদের সাথে অবধারিতভাবে ঘটছে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। ফলে ক্রমেই অবনতি হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। খুন,ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মত অপরাধের সব সূচকই গত কয়েক বছরে উর্ধ্বমুখী।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে ডাকাতির ঘটনাতে ৩১৭টি মামলা হয়,ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয় ১ হাজার ৬৭টি,খুনের ঘটনাতে ২ হাজার ৭৬টি,অপহরনের ঘটনায় ৫৯৯টি এবং চুরির ঘটনায় মামলা হয় ৫ হাজার ৬৩৬টি।
২০২৫ সালে এই সংখ্যা আরো বেশী ছিলো। ওই বছরে সারা দেশে ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয় ৭০২টি,ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামরার সংখ্যা ছিলো ২ হাজার ৮২টি,হত্যাকাণ্ডের ঘটনাতে মামলা হয় ৩ হাজার ৭৮৬টি, অপহরনের ঘটনাতে ১ হাজার ১০১টি এবং চুরির ঘটনায় মামলা হয় ৯ হাজার ৬৬৮টি।
অন্যদিকে ২০২৪ সালে ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪৯০টি,ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলার সংখ্যা ছিলো ১ হাজার ৪০৪টি,হত্যাকাণ্ডের ঘটনাতে মামলা হয় ৩ হাজার ৪৪০টি, অপহরনের ঘটনাতে ৬৪৮টি,চুরির ঘটনায় মামলা হয় ৮ হাজার ৬৬৫টি এবং সিধেল চুলির ঘটনাতে মামলা হয় ২ হাজার ৬৫৫টি।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষনে দেখা যায়, বিগত অড়াই বছরে দেশে ডাকাতি,ছিনতাই, খুন, অপহরন ও চুরি ঘটনা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে দেশে ডাকাতির ঘটনায় প্রতি মাসে গড়ে মামলা ছিলো ৪১টি,২০২৫ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৫৯টি এবং ২০২৬ সালে হয় ৪৫টি। ২০২৪ সালে ছিনতাইয়ে ঘটনায় প্রতি মাসে গড়ে মামলার সংখ্যা ছিলো ১১৭টি,২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১৭৩টি এবং ২০২৬ সালে প্রতি মাসে হচ্ছে ১৫২টি। খুনের ঘটনায় ২০২৪ সালে প্রতি মাসে গড় মামলা ছিলো ২৮৭টি,২০২৫ সালে ৩১৫টি এবং ২০২৬ সালে ২৯৭টি। ২০২৪ সালে প্রতি মাসে অপহরনের ঘটনায় গড়ে মামলা হয় ৫৪টি,২০২৫ সালে ৯২টি এবং ২০২৬ সালে ৮৬টি। চুরির ঘটনায় ২০২৪ সালে গড়ে মামলা হয় ৭২২টি,২০২৫ সালে ৮০৬টি এবং ২০২৬ সালে প্রতি মাসে মামলা হচ্ছে ৮০৫টি।
একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সেইসাথে অর্থনৈতি মন্দাভাব পরিস্তিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভুত্থানের পর এক বছরের মধ্যে সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে ৩৫৩টি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এতে বেকার হয়ে পড়েন এসব কারখানায় কর্মরত এক লাখ ১৯ হাজার ৮৪২ জন শ্রমিক। এদিকে নতুন করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠছে না। এমনকি আগের ছোট-ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিক্রি নেই, নতুন পণ্য নেই। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, আরো কিছু বন্ধের পথে। কাজ না থাকায় শ্রমিকরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। কিছু শ্রমিক জীবিকার তাগিদে আগের চেয়ে কম বেতনে চাকরি পেলেও হাজার হাজার শ্রমিক এখনো বেকার। অনেকেই চাকরি না পেয়ে চা দোকানে কাজ করছেন। কেউ টিকিট কাউন্টারে, কেউবা অটোরিকশা চালাচ্ছেন, বাজারে সবজি বিক্রি করছেন কেউ কেউ।
এদিকে ২০২৪ সালের আগস্টের পর দেশের শিল্প উৎপাদন খাতে বড় ধরনওে ধ্বস সামলাতে না সামলাতেই সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সঙ্কট।
ফলে গ্যাসনির্ভর টেক্সটাইল, নিটওয়্যার, ডাইং, ফিনিশিং,খাদ্যপন্য উৎপাদনকারী কারখানাগুলোর চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কোথাও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে, আবার কোথাও সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম উৎপাদন হচ্ছে। গত রোববার গ্যাস সংকটের কারণে লেঅফ (বন্ধ) ঘোষণা করা হয়েছে খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফুওয়াং ফুডের কারখানা।
সরকার থেকে জানানো হয়েছে দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের সমাধানে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগতে পারে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, শিল্পাঞ্চলগুলোতে আগে থেকেই গ্যাসের সংকট থাকলেও গত প্রায় ২৫ দিনের পরিস্থিতি ছিল নজিরবিহীন। আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর, কালিয়াকৈর, ময়মনসিংহ, ভালুকা, ত্রিশাল, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কোথাও শূন্যে, কোথাও এক পিএসআইয়ে নেমে এসেছিল। অথচ উৎপাদন চালাতে অন্তত তিন থেকে চার পিএসআই চাপ প্রয়োজন বলে জানা যায়।
এদিকে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সরাসরি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ জন। গ্যাস সংকটে টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাগজ, কাচ, সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
সিপিডির হিসাবে, শিল্পে গ্যাসের ব্যবহার ১ হাজার ১৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ১ হাজার ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সূচকের প্রবৃদ্ধিও ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।
অর্থনীতির ৩১টি সূচকের মধ্যে প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ ১২টিতে উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও মাথাপিছু ঋণসহ ১৯টি সূচকে অবনতি বা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারনে দেশে বাড়ছে বেকারের হারও। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেশে শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠে। বিবিএস বলছে, যোগ্যতা অনুসারে চাকরি পাচ্ছে না দেশের এক কোটি মানুষ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে উঠে এসেছে-দেশে এখনও স্নাতক ডিগ্রিধারীদের প্রতি তিনজনের একজন বেকার। এতে বলা হয়, দেশে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, বেড়েছে বেকারের সংখ্যা। এক বছরের ব্যবধানে দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে এক লাখ ৬০ হাজার। তাদের বেশিরভাগই আবার উচ্চশিক্ষিত। যোগ্যতা অনুসারে চাকরি পাচ্ছে না মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের ক্ষেত্রে বেকারত্বের চিত্র ভয়াবহ। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী যুব বেকারদের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশ স্নাতক। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শ্রমবাজারে নিরক্ষর শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৩০ লাখে। এই নিরক্ষর কর্মশক্তি দেশের অর্থনীতির উৎপাদনশীলতায় তৈরি করছে বড় সীমাবদ্ধতা। বিশেষ করে শিল্প ও সেবা খাতে দক্ষতা ঘাটতির কারণে অনেকে কাজ পেলেও যোগ্য পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। কর্মসংস্থানের কাঠামোতেও বড় বৈষম্য ধরা পড়েছে। দেশে কাজে নিয়োজিতদের ৮৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে। গ্রামে এ হার ৮৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ, শহরে ৭৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ বিপুল শ্রমশক্তি এখনো সুরক্ষাহীন, সামাজিক নিরাপত্তা ও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত।
বিএসএস এর জরিপের ফলাফলে বলা হয়,দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখেরও বেশী। তবে বেকারত্বেও এই সংখ্যা নিয়েও মতভেদ আছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করে মজুরি পেলে তাকে বেকার হিসেবে ধরা হবে না। গত এক মাস ধরে কাজপ্রত্যাশী এবং সর্বশেষ এক সপ্তাহে কেউ যদি এক ঘণ্টা মজুরির বিনিময়ে কাজ করার সুযোগ না পান, তাদের বেকার হিসেবে গণ্য করা হবে। এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সংজ্ঞা। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন,বাংলাদেশের বাস্তবতায় সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করে জীবনধারণ অসম্ভব। উন্নত দেশের মানুষ সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করলে মজুরির পাশাপাশি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাদের বেকার ভাতা দেওয়া হয়। ফলে জীবনধারণের খরচ জোগাতে তাদের খুব বেশি সমস্যা হয় না। সেই প্রেক্ষাপটে বিবিএস এর দাবিকৃত বেকারের তুলনায় বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা কয়েকগুন বেশী।
বেকারত্বের সাথে অপরাধের সম্পর্ক থাকলেও তা সব ধরনওে অপরাধেরে জন্য প্রযোজ্য নয় বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড.তৌহিদুল হক বলেন,বেকারত্বের সাথে অপরাধ বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। তবে সব ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে এটি সম্পর্কিত নয়। তিনি বলেন,উন্নত বিশ্বে যেখানে রাষ্ট্র তার জনগনের সব ধরনের দায়িত্ব নেয় সেখানে কেউ সাময়িক সময়ের জন্য বেকার থাকলেও আইনশৃঙ্খলা কিংবা জননিরাপত্তায় তার প্রভাব পড়ে না। কিন্তু বাংলাদেশের মত রাষ্টে যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে বেকারভাতার মত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির সীমাবদ্ধতার রয়েছে সেখানে বেকারত্ব কখনো কখনো মানুষকে অপরাধ প্রবন হয়ে উঠতে সহায়তা করে। তবে মাদক,পেশাদার অপরাধী কিংবা সাইবার ক্রাইমের মত অপরাধের সাথে জড়িতরা অভাবের কারনে অপরাধী হয় না। তারা এসব অপরধমূলক কাজকেই পেশা হিসেবে বেছে নেয়। তিনি আরো বলেন, বেকারত্বের কারনে মানুষ হয়তো খুব বড় ধরনের অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হয় না,তবে কখনো কখনো ছোট অপরাধ করতে গিয়ে বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তারা। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র যদি তার জনগনকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারতো, বেকারভাতাসহ অন্যান্য মৌলিক চাহদাগুলোর যোগান দিতে পারতো তাহলে সমাজ থেকে অনেক অপরাধই কমিয়ে আনা সম্ভব ছিলো।

ফটোকার্ড ডাউনলোড

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com