শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

তদবির চাপ আর অপপ্রচারে অস্থির পুলিশ

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪.৩০ পিএম
Symbolic Image

স্টাফ রিপোর্টার॥



সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে অপপ্রচার ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশকে। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে এ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেইসাথে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও হুশিয়ার করে অইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেছে পুলিশ সদর দফতর।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষোদগার করা হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে। বিগত সরকারের সহযোগী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে অনেককে। বিতর্কিত করা হচ্ছে সদ্য পদায়ন প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের। এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন পুলিশ কর্মকর্তা। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। ডিএমপি কমিশনারও এ বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।
এদিকে নানমুখী অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। বাহিনী পুনর্গঠন, প্রশাসনিক রদবদল, বদলিসহ বাধ্যতামূলক অবসর আতঙ্কে ভুগছেন পুলিশ সদস্যরা। সেইসাথে চাকরির অনিশ্চয়তাও তাড়া করছে অনেককে। বদলি-পদোন্নতির তদবিরের চাপও সামলাতে হচ্ছে বাহিনীটিকে।

গত দুই বছর ধরে নানান চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্যে দিয়ে পার হচ্ছে পুলিশ। নানামুখী চ্যলেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে বাহিনীটিকে।
একদিকে জনমনে পুলিশের প্রতি আস্থা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ, সেইসাথে পুলিশের মনোবোল ফিরিয়ে আনা,একইসাথে বিগত সরকারের সময়ে বিতর্কিত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে নতুন সদস্য নিয়োগ দিতে হচ্ছে। বিগত সময়ে পদ-পদোন্নতি বঞ্চিতদের দাবি পূরনেও সবাইকে করা যাচ্ছে না সন্তুষ্ট।
বিভিন্ন স্তরের পুলিশ সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়,গত দুই বছরে পুলিশ তাদের হারানো মনোবল কিছুটা ফিরে পেলেও প্রতিনিয়ত এখনো অনেক চ্যালেজ্ঞ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মবের ঘটনা মোকাবেলায় বিশেষভাবে ধৈর্য্যরে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। নূন্যতম বল প্রয়োগের মাধ্যমে মোকাবেলা করতে হচ্ছে মবের ঘটনাগুলো। আবার ৫ আগষ্টের পট পরিবর্তনের পর রাজধানীসহ সারা দেশেই পুলিশ সদস্যদের বদলী করা হয়। নতুন এলাকায় বদলীরর পর সেখানে সোর্স গঠন করতে না করতেই আবারো বদলীর আদেশ আসছে। এসব চ্যালেজ্ঞের পাশাপাশি ২০২৫ সালে বিএনপি’র নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর আরেক ধরনের চ্যালেজ্ঞে মোকাবেলা করতে হচ্ছে পুলিশকে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বদলি বানিজ্যের অভিযোগ উঠে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। তদবির করা হচ্ছে অনেকের বদলি ও পদোন্নতির বিষয়ে।
বিগত ১৬ বছরে পুলিশের ভেতর অনেকেই চরম বৈষম্যের শিকার হন। পদোন্নতিসহ মানসিক বিভিন্ন নির্যাতনের ভেতর দিয়ে যেতে হয় অনেক পুলিশ সদস্যদের। নতুন সরকার গঠনের পর তাদের অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন ন্যায্য পদোন্নতি পাবেন। ‘ভালো’ স্থানে বদলীর প্রত্যাশা করেন তাদের অনেকে। কিন্তু পদের তুলনায় প্রত্যাশাকারীদের সংখ্যাধিক্যের কারনে অনেককেই হতাশ হচ্ছেন।
আবার বদলি বা পদোন্নতি লাভের পর পুলিশের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষোদগার করা হচ্ছে। ফলে অনেকের বদলি স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়ে চরম উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করছে বাহিনীটির সদস্যদের মধ্যে।
সার্বিক অবস্থায় সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনেসর পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে এক বিবৃতির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়। গত ৩ আগস্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতিপয় ব্যক্তি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের সহযোগী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে। শুদুমাত্র বিগত সরকারের আমলে চাকরি করার অজুহাতে পেশাদার, সৎ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্য হলো পুলিশ কর্মকর্তাদের মনোবল দুর্বল করা, সদ্য পদায়ন প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিতর্কিত করা, সামগ্রিকভাবে পুলিশ বাহিনীকে ডিমোরালাইজড করা, জনমনে পুলিশ বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সার্বিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করা।
এদিকে গত ৬ আগস্ট রাজধানীতে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার ও অ্যাসোসিয়েশনের সভাপিত মোসলেহ উদ্দীন আহমদ পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সরকার ও পুলিশকে যারা বিতর্কিত করতে চায় তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
পুলিশ সদর দফতরের হুশিয়ারিঃ-
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অপপ্রচার চালানোর বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।
সম্প্রতি পুলিশ সদর দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়। অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,সম্প্রতি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দেশি-বিদেশি দোসররা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা, পুলিশ বাহিনীর মনোবল ক্ষুন্ন এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
এতে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জোরালো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ও অপপ্রচারকারীদের কোনো অন্যায় তদবির আমলে না নেওয়ায় অসন্তুষ্ট মহল মনগড়া তথ্য সংবলিত এ ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত থাকা, পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি দফতরে বিভিন্ন অন্যায় তদবির করা ও অপপ্রচার না চালানোর শর্তে অর্থ দাবির তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

ফটোকার্ড ডাউনলোড

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com