শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ব্যাংকে অডিট চলাকালে ম্যানেজারের ‘আত্মহত্যা’, নেপথ্যে কী? থানায় ৩ অডিট সদস্য শাহজাদপুরে কোটি টাকার খাস জমি জবরদখল: অভিযান চালিয়ে সরঞ্জাম জব্দ করল প্রশাসন ১৭ বছরে অর্থনীতি ধ্বংস করে গেছে স্বৈরাচার, পুনরুদ্ধারে লড়ছে সরকার: শামা ওবায়েদ নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হলেন কোয়েল মল্লিক গরু ‘চুরি’ করে ছেলের বউভাত: গ্রেপ্তার বাবা ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত জামিন নামঞ্জুর, আখতারুজ্জামান কারাগারে ২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা রাজধানীর বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সওজের মদ্যপ প্রকৌশলীকে ঘিরে বিতর্ক, সরকারের ভাবমূর্তি  ক্ষুন্নের অভিযোগ

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও পরিকল্পনার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

  • আপডেট সময় বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮.৩৪ পিএম

টিডিএস ডেস্ক॥



জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের এক ঐতিহাসিক সফর শেষে সম্প্রতি বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এ সফরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে একদিন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসতে একদিন সময় লেগেছিল, আর মাঝে চারদিন তিনি সেখানে অবস্থান করেন। এই স্বল্পতম সময়ের সফরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বমোট ৩০টি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এর বাইরেও অনানুষ্ঠানিকভাবে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বিশ্বের ১১টি দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন, ৬টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন এবং বিশ্বমঞ্চে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন।

তিনি বলেন, গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি বহরে তিনি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সফর করেন। আমরা টার্কিশ এয়ারওয়েজে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাই এবং ফেরার সময় এমিরেটস এয়ারলাইন্সে দেশে ফিরে আসি। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ছিল মাত্র ৩৫ জন, যার মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ পদমর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এর বাইরে সাধারণত যে ধরনের অত্যাবশ্যকীয় নিরাপত্তা কর্মী, মিডিয়া ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা থাকেন, কেবল তারাই উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও পুরো সফরজুড়ে এই চারদিনে প্রায় ৫০টির মতো পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। ফলে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮০টিরও অধিক বিভিন্ন ধরনের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আমাদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ততার কারণে প্রতিনিধিদলের বড় একটি অংশ নিয়ে দেশে ফিরে এলেও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে একটি টিম ক্যালিফোর্নিয়ায় গেছেন। সেখানে টেকনোলজি, ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়ে জাতিসংঘের বাইরে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের ধারাবাহিক কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চারদিনের ৩০টি কর্মসূচির মধ্যে ৮টি সরাসরি জাতিসংঘ সদরদপ্তরের মূল ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। প্রথমত, তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী পর্বে যোগদান করেন। দ্বিতীয়ত, তিনি সাধারণ পরিষদে বিশ্বমঞ্চে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। আপনারা দেখেছেন- সেই ভাষণে তিনি কীভাবে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। তৃতীয়ত, জাতিসংঘের মহাসচিব আয়োজিত প্রাতরাশ সংবর্ধনায় তিনি অংশ নেন, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান ও তাদের সহধর্মিণীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। একইভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেন। উভয় অনুষ্ঠানেই জাতিসংঘের মহাসচিব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গেও ডা. জুবাইদা রহমানের অত্যন্ত আন্তরিক কুশলবিনিময় হয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন- ইতোপূর্বেও মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ডা. জুবাইদা রহমান পৃথকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে সফর করেছিলেন।

উপদেষ্টা বলেন, এছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি উচ্চপর্যায়ের ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্ব দেন। এর একটি ছিল ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্ট ট্রানজিশন’ এবং অন্যটি ‘সি লেভেল রাইজ’ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। এ দুটি অনুষ্ঠানেই তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বিশ্ববাসীর কাছে সুবিস্তৃতভাবে তুলে ধরেন। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির রূপরেখা, পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং সোলার এনার্জি ও রিসাইকেলেবল এনার্জিতে আমাদের অগ্রাধিকারের কথা তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে গ্রিন ফ্যাক্টরির সংখ্যা বাড়ানো এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার যে বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা, তা বাস্তবায়নে তিনি জোর তাগিদ দেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। একজন বিশ্বনেতার দূরদর্শিতা নিয়ে তিনি জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তোলা, বিশ্বমঞ্চে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড কার্যকর করতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পেশ করেন।

তিনি বলেন, পাশাপাশি বাংলাদেশ আরও দুটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট যৌথভাবে আয়োজন করে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ছিল। একটি ছিল স্বাস্থ্যসেবা ও মিডওয়াইফারি সংক্রান্ত, যেখানে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সেখানে প্রতি বছর স্বাস্থ্যসেবাকর্মী বৃদ্ধি, বিশেষ করে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ (যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী) এবং দ্রুত ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের সরকারি নীতি ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং প্রত্যেকের কাছে ই-হেলথ কার্ড নিশ্চিত করতে আমাদের স্বাস্থ্য দর্শনের কথা জাতিসংঘে উপস্থাপন করা হয়।

তিনি বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ছিল রোহিঙ্গা সংকট সমাধান সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সেখানে প্রায় ২০টি দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট পাঁচটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং বিশ্ব সম্প্রদায় তা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে গ্রহণ করে।

মিয়ানমার থেকে উদ্ভূত এ সমস্যার সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত রয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের প্রত্যাবাসনে চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ যে ঐতিহাসিক উদারতা দেখিয়েছে, তার জন্য বিশ্ববাসী সাধুবাদ জানিয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক সহায়তার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করেছিলেন, বর্তমান সরকারও সেই নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কার্যকর সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।

‘বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি ছিল এক অনন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর একই রাষ্ট্রের পক্ষে তাদের সন্তান হিসেবে তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এমন এক গৌরবময় সময়ে এ ভাষণটি অনুষ্ঠিত হয় যখন সাধারণ পরিষদে সভাপতিত্ব করছিলেন তারই মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভাষণে তিনি দীর্ঘকাল পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিনিধিত্ব তুলে ধরেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নারী, যুবক ও শিশুদের কল্যাণ এবং দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি পুনর্গঠনে ‘৩ আর’ পলিসি অর্থাৎ রিকভারি, রিস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাক্টশনের পূর্ণাঙ্গ দর্শন তিনি ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড ও ইউনিভার্সাল কার্ডের রূপরেখা পেশ করার পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিক্স ও স্টার্টআপ তহবিলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জলবায়ু সুরক্ষার দাবির পাশাপাশি তিনি শান্তিরক্ষা ও ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থনের কথা জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী যখন বক্তব্য দিতে ওঠেন, তখন সেই নীতিগত অবস্থান থেকেই বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল কক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ওয়াকআউট করে। গণতান্ত্রিক সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রচিত রূপরেখা বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদাকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

উপদেষ্টা বলেন, চার দিনে বিশ্বের ১১টি দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছিল দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান, ভুটান ও মালদ্বীপ; মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরান; এশিয়া প্যাসিফিকের থাইল্যান্ড; ইউরোপের তুরস্ক ও ক্রোয়েশিয়া এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের হাইতি। এসব বৈঠকে সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ভাতৃত্ববোধ জোরদার, জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং হাইতির ক্ষেত্রে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহ্যের আলোকে সার্বিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং শান্তিরক্ষা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অনবদ্য অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বিগত সাত মাসে মানবাধিকার রক্ষা, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে তা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি প্রদান এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নীতি বাস্তবায়নে টেকনিক্যাল ও ফাইন্যান্সিয়াল সহায়তা প্রদানের ব্যাপারে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের বৈঠক জাতীয় ও বৈশ্বিক শান্তির বিষয়ে আলোচনা হয়। গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ইস্যু এবং স্থানীয় প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে দেশের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। মার্কিন বেসরকারি খাতের আয়োজনে ওয়াল স্ট্রিটের প্রথম সারির প্রায় ২৫ জন শীর্ষ বিনিয়োগকারীর সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সংস্কার এবং বন্ডসহ নতুন ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্ট্রুমেন্ট চালুর বিষয়ে অত্যন্ত কার্যকর সংলাপ হয়েছে। বোয়িং গ্লোবালের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিমানের বহর সম্প্রসারণে নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও জাতিসংঘে অত্যন্ত ব্যস্ত ও কার্যকর সময় অতিবাহিত করেছেন। তিনি ৮টি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ৩টিতে বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘ উইমেন লিডার্স প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ করে তিনি বিশ্ব নারী নেতৃত্বের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। ওয়ার্ল্ড ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডিদের উপস্থিতিতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য দর্শনের কথা উপস্থাপন করেন। এছাড়া মিডওয়াইফারি সাইড ইভেন্টে একজন চিকিৎসক হিসেবে তার মূল্যবান সমাপনী বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে এবং মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশেষ অনুষ্ঠানে বিশ্বের শীর্ষ ফার্স্ট লেডিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন।

মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ে নির্বাচিত একটি সরকারের সরকারপ্রধান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক বিশাল ও বলিষ্ঠ পদচারণা ছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় স্বার্থকে তিনি অক্ষুণ্ণ রেখেছেন, সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার মাধ্যমে বিশ্বদরবারে দেশকে উজ্জ্বল করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে প্রতিটি দেশের সঙ্গে আমরা সুদৃঢ় অংশীদারিত্ব চাই, বিনিয়োগ চাই এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ চাই; যার মাধ্যমে আমরা দেশের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে পারব, স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে পারব এবং প্রতিটি মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

সুতরাং বৈশ্বিক কূটনীতিতে এ সফরটি ছিল আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার এক দৃঢ় প্রত্যয়। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সমতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ আজ এক ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের হাত ধরে শুধু বাংলাদেশের ভেতরেই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ বড় ভূমিকা পালন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা দেখেছি বিশ্বসভায় বাংলাদেশ কতটা আত্মবিশ্বাসী ছিল। আমাদের জাতীয় আত্মমর্যাদা, আত্মপ্রত্যয় এবং আত্মপরিচয় প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তার প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিফলিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রযাত্রা।

ফটোকার্ড ডাউনলোড

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com