স্টাফ রিপোর্টার॥
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ (দিয়াবাড়ী, উত্তরা)-এর উপপরিচালক (প্রকৌশল) সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা মহানগর অটোরিকশা চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে এ দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথের প্রভাব খাটিয়ে সুব্রত দেবনাথ বিআরটিএ-তে সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) পদে নিয়োগ পান। যোগদানের পর থেকেই তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রামে সিএনজি অটোরিকশার প্রতিস্থাপন, নতুন নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি বাণিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম মেট্রো বিআরটিএ-তে সহকারী পরিচালক হিসেবে চার মাসের দায়িত্ব পালনকালে ২০০৩ ও ২০০৪ মডেলের প্রায় ২,৫০০টি সিএনজি অটোরিকশা স্ক্র্যাপ করে প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়ায় তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন। স্থানীয় কয়েকটি নির্দিষ্ট শোরুম মালিকদের সাথে সমঝোতা করে সাধারণ মালিকদের কাছ থেকে অটোরিকশা প্রতি ৩ লাখ টাকা হারে মোট ৭৫ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য করেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
পরবর্তীকালে পরিবহন মালিকদের আপত্তির মুখে তাকে ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২ এ বদলি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দায়িত্ব পালনকালে ২,০০০ সিএনজি অটোরিকশা প্রতিস্থাপনে অটোরিকশা মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের নেতাদের মাধ্যমে গাড়িপ্রতি ৫০ হাজার টাকা হারে মোট ১০ কোটি টাকা নেন তিনি। এছাড়া ঢাকা জেলা সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকাকালে ৫০০ অটোরিকশা নিবন্ধনের মাধ্যমে আরও ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে।
২০২২ সালে উপপরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বিআরটিএ সদর দপ্তরে উপপরিচালক (প্রকৌশল-৩) হিসেবে যোগ দেন সুব্রত দেবনাথ। সেখানে আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাসের রুট পারমিটের দায়িত্ব পালনকালে অনুমোদনহীন প্রায় চার শতাধিক ‘স্লিপার বাস’-এর রুট পারমিট প্রদান করেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, সুব্রত দেবনাথ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ উপায়ে ভারতে পাচার করেছেন। ভারতের বিভিন্ন স্থানে তাঁর নামে-বেনামে একাধিক বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং রাজধানী ঢাকাতেও তাঁর একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে।
দুদকে দায়ের করা অভিযোগে বিআরটিএর এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিএনজি প্রতিস্থাপন বাণিজ্য, অবৈধ রুট পারমিট অনুমোদন এবং সম্পদ পাচারের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।