টিডিএস ডেস্ক॥
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কালাম মো. আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা প্রায় ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পুনঃতদন্তের দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ উঠেছে, তিনি ঢাকা জোনে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন ও মেরামত প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ‘তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহের উন্নয়ন’, ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন’ প্রকল্প এবং মেরামত ও সংস্কার কর্মসূচির আওতায় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, মাঠ ভরাট ও রাস্তা নির্মাণের কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
এসব অভিযোগের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দপত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বরাদ্দের চেয়ে আরও ৫ কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার ৬০৬ টাকা অতিরিক্ত উত্তোলনের অভিযোগও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের শৃঙ্খলা শাখা থেকে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আবুল কালাম মো. আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) ধারায় বিভাগীয় মামলা এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তী সময়ে একটি তদন্তের মাধ্যমে তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়। দপ্তরসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মীর মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ ওই কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়ে তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার সুপারিশ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দপ্তরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, আগের তদন্তে যেসব অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলো নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কোনো সংস্থার মাধ্যমে নতুন করে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আখতারুজ্জামানকে সাময়িকভাবে ওএসডি করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ইইডিতে বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে অনিয়মের সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা। তবে এ প্রতিনেবদন লেখা পর্যন্ত এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে দীর্ঘ সময় ইইডিতে চাকরির সুবাদে আখতারুজ্জামান নিজের জেলা রাজশাহী ও ঢাকায় প্লট-ফ্ল্যাট এবং নিকটাত্মীয়দের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র রেখেছেন, এমন অভিযোগও এনেছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কালাম মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এগুলো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। সামনে আমার একটি প্রমোশন আছে। সেটি আটকানোর জন্যই দাপ্তরিক চক্রান্তের শিকার হচ্ছি।