রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ব্যাংকে অডিট চলাকালে ম্যানেজারের ‘আত্মহত্যা’, নেপথ্যে কী? থানায় ৩ অডিট সদস্য শাহজাদপুরে কোটি টাকার খাস জমি জবরদখল: অভিযান চালিয়ে সরঞ্জাম জব্দ করল প্রশাসন ১৭ বছরে অর্থনীতি ধ্বংস করে গেছে স্বৈরাচার, পুনরুদ্ধারে লড়ছে সরকার: শামা ওবায়েদ নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হলেন কোয়েল মল্লিক গরু ‘চুরি’ করে ছেলের বউভাত: গ্রেপ্তার বাবা ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত জামিন নামঞ্জুর, আখতারুজ্জামান কারাগারে ২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা রাজধানীর বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সওজের মদ্যপ প্রকৌশলীকে ঘিরে বিতর্ক, সরকারের ভাবমূর্তি  ক্ষুন্নের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জে নেই জলাতঙ্কের টিকা, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ৮.১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত


স্টাফ রিপোর্টার॥



সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে একমাস ধরে মিলছে না জলাতঙ্কের (অ্যান্টি রেবিস) টিকা। এতে পোষা প্রাণীর কামড়ে বাড়ছে জলাতঙ্ক রোগের শঙ্কা। আক্রান্তদের কেউ কেউ ফার্মেসি থেকে চড়া দামে টিকা কিনে প্রয়োগ করলেও ভোগান্তির কারণে ক্ষুব্ধ রোগী ও স্বজনরা। অথচ, এটি জেলার একমাত্র জলাতঙ্কের টিকা কেন্দ্র।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে কথা হয় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গজারিয়া গ্রামের জেমি খাতুনের সঙ্গে তিনি বলেন, তার চার বছরের আয়রাতুল ইসলাম নামের এক শিশুকে বিড়াল কামড় দিয়েছেন। এ জন্য তিনি তার শিশু সন্তানকে নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর জানতে পারেন হাসপাতালে জলাতঙ্ক রোগের টিকা নেই। এতে হতাশ হন তিনি। পরে জানতে পারেন বাইরে থেকে কিনে আনতে হবে। এরপর আরও তিনজন রোগীর সঙ্গে যৌথভাবে শহরের একটি ফার্মেসি থেকে ৭০০ টাকায় কিনে আনলে নার্স পুশ করে দেন।

ছবি: সংগৃহীত

জেমি খাতুনের মতো প্রতিদিন বহু মানুষ কুকুর, বিড়ালসহ বন্যপ্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ছুটে যান। কিন্তু টিকা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আবার বাইরের ফার্মেসিগুলোতে নির্দিষ্ট দামে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত এ ইনজেকশন। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত শতশত মানুষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কুকুর, বিড়ালসহ বন্যপ্রাণী আক্রান্ত মানুষদের সাত দিনের মধ্যে জলাতঙ্ক রোগের টিকার তিনটি ডোজ নিতে হয়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ফ্রিতে এ টিকা প্রদান করা হয়। কিন্তু গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে র্যাবিস ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা হাসপাতালে সরবরাহ নেই। অথচ, প্রতিদিন দেড়শ থেকে দুইশ মানুষ সেবা নিতে আসেন, যার মধ্যে বেশিরভাগ শিশু। এতে রোগীদের খরচের সঙ্গে বেড়েছে ভোগান্তি।

সদর উপজেলার কান্দাপাড়া এলাকার আব্দুল খালেক বলেন, ছেলেকে কুকুর কামড় দিয়েছে। তাই সরকারি হাসপাতালে ফ্রিতে সেবা নিতে আসছিলাম। কিন্তু টিকা না পাওয়ায় বাইরের ফার্মেসি থেকে টাকা দিয়ে কিনে এনে সেবা নিতে হল। তিনি বর্তমান সরকারের উদাসীনতায় টিকা পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করছেন।

হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন গজারিয়া গ্রামের আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ছেলেকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। দ্রুত হাসপাতালে ছুটে এসেছি, কিন্তু এসে শুনি টিকা নেই। পরে বাধ্য হয়ে ফার্মেসি থেকে ৮০০ টাকায় কিনে এনে পুশ করেছি। এমনটা হবে জানলে সরকারি হাসপাতালে আসতাম না।

হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স আয়শা খাতুন বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। প্রতিদিনই ১২০ থেকে ১৬০ জন রোগী আসছে। কিন্তু জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ নেই। টিকা পাওয়া না গেলে রোগীদের ভোগান্তি কমবে কীভাবে। আমরা ঊর্ধ্বতনদের বার বার বলেও কোনো সমাধান পাচ্ছি না।

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকিকুন নাহার মনি বলেন, প্রায় এক মাস ধরে হাসপাতালে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। আমরা এজন্য নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছি। ফলে বাইরের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে রোগীদের। তবে শিগগির এ সমস্যার সমাধান হবে তিনি আশা করেন।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন বলেন, সাময়িকভাবে জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে কবে নাগাদ টিকা মিলবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তা ঠিক নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

ফটোকার্ড ডাউনলোড

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com