বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ব্যাংকে অডিট চলাকালে ম্যানেজারের ‘আত্মহত্যা’, নেপথ্যে কী? থানায় ৩ অডিট সদস্য শাহজাদপুরে কোটি টাকার খাস জমি জবরদখল: অভিযান চালিয়ে সরঞ্জাম জব্দ করল প্রশাসন ১৭ বছরে অর্থনীতি ধ্বংস করে গেছে স্বৈরাচার, পুনরুদ্ধারে লড়ছে সরকার: শামা ওবায়েদ নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হলেন কোয়েল মল্লিক গরু ‘চুরি’ করে ছেলের বউভাত: গ্রেপ্তার বাবা ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত জামিন নামঞ্জুর, আখতারুজ্জামান কারাগারে ২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা রাজধানীর বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সওজের মদ্যপ প্রকৌশলীকে ঘিরে বিতর্ক, সরকারের ভাবমূর্তি  ক্ষুন্নের অভিযোগ

গণপূর্ত অধিদপ্তর: বদরুলদের অনিয়মই যেখানে নিয়ম!

  • আপডেট সময় সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২.০১ এএম
মোহাম্মদ বদরুল আলম খান ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি॥



যদিও তিনি উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, তথাপী তার বিরুদ্ধে উঠেছে দূর্ণীতি, অনিয়ম ও নারী কেলেঙ্কারীসহ নানাবিধ ফৌজদারী অপরাধের অভিযোগ, যা জানলে যে কোন সাধারণ মানুষের চোখ কপালে উঠে যাবে।
যার কথা বলছি, তিনি আর কেউই নন, তিনি হলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের সার্কেল-১ এর সম্প্রতি ওএসডি হওয়া তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ বদরুল আলম খান, যিনি ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সরকারি কর্মক্ষেত্রেও কায়েম করেছেন ত্রাসের রাজত্ব।
একাধিক অভিযোগ, অডিও-ভিডিও ক্লিপস, সোস্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধূরীর ছত্রছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, দূর্ণীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্জন করেছেন অঢেল সম্পদ। সরকারি প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে তিনি হয়েছেন শত শত কোটি টাকার মালিক। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজের ভোল (রূপ) পাল্টিয়ে বিশেষ মহলের ছত্রছায়ায় সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের নিয়োগ, বদলি বাণিজ্য, পদোন্নতি ও ঠিকাদার নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থাপন করেছেন একচ্ছত্র আধিপত্য।
অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সার্কেল-১ এ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে পদায়নের সাথে সাথে নিজস্ব ঠিকাদারদের নিয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে গণপূর্তের দরপত্র কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেন তিনি। আত্মীয় স্বজনের নাম ব্যবহার করে গণপূর্তে ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। এমনকি সরকারি চাকরিবিধি লংঘন করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগ করেছেন খোদ তার প্রথম স্ত্রী জেসমিন।
শুধু তাই নয়, সরকারের এমন দায়িত্বশীল একটা পদে থেকেও তিনি গড়ে তুলেছেন একাধিক নারীর সাথে বিবাহ বহিভুত সম্পর্ক। বিভিন্ন প্রলোভনে সুন্দরী নারীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ঐসব নারীদের ব্যবহার করে নিজ কর্মস্থলের একাধিক কর্মকর্তাদেরকে ব্লাকমেইল করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত পরকিয়ায় জড়ানো নারীদেরকেও ব্লাকমেইল করতে ছাড় দেননি তিনি, এমন অভিযোগও এসেছে একাধিক ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে।
ইতিমধ্যেই সোস্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে তার অপকর্মের একাধিক অডিও-ভিডিও। মন্ত্রনালয় ও দুদকে জমা পড়েছে একাধিক লিখিত অভিযোগ। অপরদিকে বিষয়গুলোকে ধামাচাপা দিতে বদরুল শুরু করেছে নানা তদবির, দৌড় ঝাঁপ এবং মিডিয়া গেম।
দূর্ণীতি, অনিয়ম ও অপকর্মের ফিরিস্তি ঃ
২১তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ বদরুল আলম খান সম্প্রতি নানাবিধ দূর্ণীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (সিভিল) গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে ওএসডি হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান প্রকৌশলীকে সামনে রেখে তিনিই উক্ত দপ্তরের সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। শুধু তাই নয়, এক ভিডিও বার্তা অনুযায়ী জুলাই-আগষ্টের আন্দলোনের পর প্রায় ২২ কোটি টাকা উৎকোচের বিনিময়ে তার সহযোগীতায় খালেকুজ্জামানকে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। ফলে প্রধান প্রকৌশলী এক অর্থে তার কাছে জিম্মি। তাই তিনি বদরুলের সকল অপকর্মকে যায়েজ করে নিয়ে থাকেন এক বাক্যে।
অভিযোগ রয়েছে, বদরুল আলম সুবিধা অনুযায়ী নিজেকে কখনো আওয়ামীলীগ, কখনো জাতীয়তাবাদী দল, কখনো জামায়াত আবার কখনো জুলাই যোদ্ধাদের একজন হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে আসছেন। এমনকি সুযোগ বুঝে তিনি বিভিন্ন সময়ে আত্মীয়তা পাতিয়েছেন রাজনৈতিক নেতা ও ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে। অতীতে তিনি নিজেকে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের ভাতিজা বলে পরিচয় দিতেন। পরবর্তীতে নিজেকে তিনি সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের নাতি বলে দাবী করেছেন। কখনো কখনো ফ্যাসিবাদের আরেক মন্ত্রী আ ম ওবায়দুল মোক্তাদীর চৌধুরীর ভাগিনা বলে নিজেকে জাহির করেছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের বড় কুটুম বলে আবির্ভূত হয়েছেন। বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান তার অত্যন্ত কাছের লোক, তিনিই তাকে প্রধান প্রকৌশলীর পদে বসিয়েছেন বলে সহকর্মী প্রকৌশলীদের কাছে দম্ভ করে বলে থাকেন।
আরো জানা যায়, গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৭ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ঢাকা গণপূর্ত-১ সার্কেলে বদলী করা হয়। এই সার্কেলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে ওসমান গনিকে পদায়নের সুপারিশ করেছিলেন সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম। বিষয়টি গোপনে জানতে পেরে একজন রাজনৈতিক নেতাকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুষ দিয়ে তাকে দিয়ে তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে সচিবকে ফোন করান বদরুল। এর ফলে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে বদরুলকে ঢাকা গণপূর্ত-১ সার্কেলে বদলী করা হয়।
জনশ্রুতি রয়েছে, উপহার স্বরূপ নির্বাচনী খরচ বাবদ ঐ নেতাকে গত ১০ ফেব্রুয়ারী রাতে গাড়ি ভর্তি করে ১ কোটি টাকা পাঠান প্রকৌশলী বদরুল। পূর্ত ভবন থেকে সাভার সার্কেলের লাল একটি গাড়িতে করে ওই দিন সন্ধ্যার পরে ঐ টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়, কারণ প্রকৌশলী বদরুলের ধারণা ছিল জামায়াত নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে।
গত ডিসেম্বরে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া এক অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা প্রকৌশলী বদরুল আলম খান ২০০৩ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (এসডিই) হন। এই সুযোগে নামে বেনামে ঠিকাদারি, বদলি বাণিজ্য ও ভূয়া বিল-ভাউচারসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক বনে যান তিনি।
চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ে এভাবে লুটপাটের সাম্রাজ্য কায়েম করে অর্জন করা অবৈধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে- তার স্ত্রীর নামে ঢাকার মালিবাগে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, খিলগাঁও-এর গোড়ানে ৬তলা বিলাশবহুল বাড়ি, আশুলিয়ায় গার্মেন্টস্ এক্সেসরিজ কারখানা, আপন ভাইয়ের সাথে যৌথভাবে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, নামে-বেনামে বিভিন্ন লাইসেন্সের মাধ্যমে পরোক্ষ ঠিকাদারী ব্যবসা, রাজধানীর গুলশানে নিজ নামে একটি ও স্ত্রীর নামে দু’টি বিলাসবহুল আবাসিক ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১০ কাঠার তিনটি প্লটসহ বিভিন্ন দেশে হরেক রকম বিনিয়োগ। এছাড়া শতশত কোটি টাকা তিনি এক শিবির নেতার মাধমে দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন বলে ভিডিও এবং অডিও বার্তায় দাবী করেছেন তার কথিত এক প্রেমিকা। শুধু তাই নয়, ঐ পরকিয়া প্রেমিকাকে ব্যবহার করে তিনি একই দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তাকে ব্লাকমেইল করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা, যা ফৌজদারী অপরাধের সামিল। তার লালসা আর প্রতারনার শিকার ঐ নারী বর্তমানে অস্ট্রোলিয়াতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
সার্ভিস রেকর্ড অনুযায়ী বদরুল আওয়ামীলীগ সরকারের ২য় টার্মে নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে ২০১৪ সালে তৎকালীন মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের মাধ্যমে ভোলায় লোভনীয় পোস্টিং বাগিয়ে নেন। সেখানে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ বছরের চাকরি জীবনে তিনি তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা এমপি মইনুল হোসেন বিপ্লব, এমপি আলী আজম মুকুল ও নুরুন্নবী শাওন এমপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে লুটেরা সিন্ডিকেট গঠন করেন।
ঐ সময় তিনি সিজিএম আদালত ভবন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, পুলিশ বিভাগের নতুন থানা নির্মাণ, জেলা ও উপজেলা টিটিসি, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সকল দরপত্র নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে কমিশন বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও তিনি ভোলা গণপূর্ত বিভাগের মেরামত রক্ষনাবেক্ষণ কাজ থেকে ১৫ শতাংশ হারে ঘুষ আদায় করেও বড় অংকের অর্থ লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারে আমলে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরীর মাধ্যমে ২০২০ সালে প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের কাছে তদবির করিয়ে ময়মনসিংহে বদলী হন তিনি। পরবর্তীতে গণপূর্তের চট্টগ্রাম ১ নং সার্কেলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে থাকালীন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আরো কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেন তিনি।
ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানে গণপূর্তে ভোলা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার কয়েকজন ঠিকাদারকে ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। কুমিল্লার একটি দরপত্রে ভুয়া সনদধারী ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ এবং “আসিফ” নামের এক ঠিকাদারকে পুলিশের বিভিন্ন থানা ভবন নির্মাণসহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য তদবিরের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মিরপুর পাইকপাড়া আবাসিক প্রকল্পের আরবরিকালচার কাজ বিধিবহির্ভূতভাবে অন্য বিভাগের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পুলিশের ১০৭ থানা নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভাষানটেক থানার ভবন নির্মাণের কাজও পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে দাবী করা হয়েছে, বদরুল আলম খান, তার পরিবারের সদস্য এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা বিপুল সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ঢাকায় একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল স্থাপনা, খামারবাড়ি, ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভাই-বোনদের নামে সম্পদ স্থানান্তর, ডেভেলপার ব্যবসায় সম্পৃক্ততা এবং আয়কর নথিতে প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগও তদন্তের দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বদলি বাণিজ্য এবং বিভিন্ন প্রকল্প থেকে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে গত কয়েক মাসে প্রায় ১২২ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করা হয়েছে। এই অর্থ নিজের নামে না রেখে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে স্থানান্তর ও গোপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বদরুল আলম খানের প্রথম স্ত্রী মিসেস জেসমিন অভিযোগ করেন, ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি স্বামীর কাছ থেকে চরম অবহেলার শিকার হয়েছেন। তাদের সংসারে তিন কন্যা সন্তান রয়েছে। তার দাবি, দীর্ঘ সংসারজীবনে বদরুল আলম খান পরিবারের প্রতি কোনো দায়িত্ব পালন করেননি। বাবার এমন আচরণের কারণে তাদের ছোট মেয়ে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বদরুল আলম খানের দ্বিতীয় বিয়ে এবং অন্য একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও করেছেন তার প্রথম স্ত্রী। তিনি বলেন, একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য নথিপত্র দুদকে জমা দেয়া হয়েছে।
এদিকে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে তার বিরুদ্ধে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রধান প্রকৌশলী বরাবর অভিয়োগ দিয়েছেন তার প্রথম স্ত্রী জেসমিন। কিন্তু, বিষয়গুলো অজ্ঞাতকারণে তদন্ত করা হচ্ছে না বলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগে করেন।
একাধিকবার চেষ্টা করেও এ বিষয়ে বদরুল আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারহীনতা এবং রাজনৈকিত স্বদিচ্ছার অভাব এসকল বদরুলদের উত্থান ঘটাচ্ছে। এখনই লাগাম টেনে না ধরলে বিএনপি সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া কখনোই সম্ভব হবে না!

ফটোকার্ড ডাউনলোড

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com