সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

জ্বালানি সংকটে পাকিস্তান: বিদেশ ভ্রমণ ও সরকারি ভোজ নিষিদ্ধ, বিয়ের দাওয়াতে এক পদ

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫.৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পরবর্তী তিন মাসের জন্য সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।



টিডিএস ডেস্ক॥



পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানে ব্যাপক জ্বালানি সংকটের মধ্যে জ্বালানি সংরক্ষণ ও অর্থ সাশ্রয় প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বেশকিছু ‘নজিরবিহীন’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। এর মধ্যে সরকারি যানবাহনে জ্বালানি বরাদ্দ হ্রাস করা, সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য নতুন যানবাহন কেনা বন্ধ, কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ রাখা এবং সরকারি নৈশভোজ বাতিলের মত সিদ্ধান্তও আছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার রাতে জারি করা এক সরকারি বিবৃতিতে এ কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ঘোষণা করা হয়।

বিবৃতিতে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেগুলো হল- পরবর্তী তিন মাসের জন্য সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্যান্য প্রশাসনিক খরচ বা বাজেটে ৫ শতাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাত ছাড়া অন্য সব স্থায়ী বা ভারী পণ্য কেনা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সময় সরকার অন্যান্য স্থাবর বা স্থায়ী সামগ্রীও কিনবে না। বাধ্যতামূলক বা স্কলারশিপের ক্ষেত্র ছাড়া পরবর্তী তিন মাসের জন্য সব ধরণের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ থাকবে।

একান্ত প্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের অবশ্যই বিমানে ইকোনমি ক্লাস বা সুলভ বা সাধারণ শ্রেণির টিকিট নিতে হবে। জ্বালানি ব্যবহার ও সরকারি ব্যয় কমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্ভব হলে টেলি কনফারেন্সিং বা অনলাইন মিটিংয়ের ওপর নির্ভর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে যে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে অতিথিদের জন্য কেবল ‘এক পদের খাবার’ পরিবেশন করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশজুড়ে বিপনীবিতানগুলো রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।

ব্যাপক জ্বালানি সংকটের মুখে এর আগে গত মার্চেও একই ধরনের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছিল পাকিস্তান সরকার। তখন সরকার সাময়িকভাবে দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে। এছাড়া জ্বালানি ব্যবহার কমায় এবং বিভিন্ন অফিসে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাসা থেকেই কাজ করতে উৎসাহিত করা হয়।

পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া চলমান সংকটের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পাকিস্তানের সামগ্রিক জ্বালানি খাতের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোল ও ডিজেলের দামও বেড়ে গেছে।

পাকিস্তানের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ডনের শুক্রবারের খবর অনুযায়ী, দেশটিতে পেট্রোলের দাম সামান্য কমলেও ডিজেলের দাম নতুন করে বাড়িয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ০.৪৩ রুপি কমালেও হাই-স্পিড ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩.৪৭ রুপি বাড়ানো হয়।

এর ফলে পাকিস্তানে পেট্রোলের নতুন খুচরা মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৩৯০.৭৯ রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ৪২৪.৯২ রুপি। এর মধ্যে সরকার পেট্রোলে লিটারপ্রতি ১১৪ রুপি এবং ডিজেলে লিটারপ্রতি ১০০ রুপি শুল্ক ও কর আদায় অব্যাহত রেখেছে।

নতুন কৃচ্ছ্রসাধন নীতির বিষয়ে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেন, “সরকার জ্বালানি ত্রাণ প্যাকেজের মাধ্যমে গ্রাহকদের এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করার চেষ্টা করছে। বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নীতি অনুযায়ী মোটরসাইকেল, রিকশা এবং ছোট গাড়ির মালিকরা নির্দিষ্ট মাসিক কোটা সাপেক্ষে জ্বালানির প্রতি লিটারে ১০০ রুপি ভর্তুকি পাবেন।”

ফটোকার্ড ডাউনলোড

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com