বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

খালুকে বাবা বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি: সিরাজগঞ্জে তোলপাড়

  • আপডেট সময় রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬.৫৩ পিএম
আব্দুর রশিদ এবং সালেহ আকরাম

বিশেষ প্রতিনিধি॥



নিজের জন্মদাতা পিতাকে বাদ দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা খালুকে পিতা বানিয়ে সরকারি চাকরি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। জাল জালিয়াতি ও মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুযোগ নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সেনাবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন।

অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ইউনিয়নের দশসিকা গ্রামের রুস্তম আলী ও রেহানা বেগম দম্পতির ছেলে আব্দুর রশিদ এবং সালেহ আকরাম।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের মূল পরিচয় গোপন করে সরকারি নথিপত্রে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের সিংগারগাতি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী এস এম আবুল কাসেমকে পিতা এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী রেজিয়া পারভীনকে মাতা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ গত ১০ বছর ধরে সিরাজগঞ্জ সদরের হামকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। অন্যদিকে তার ভাই সালেহ আকরাম বিগত ১৫ বছর ধরে সেনাবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী এস এম আবুল কাসেম মূলত দশসিকা গ্রামের জামাই। বাস্তবে তার কোনো ছেলেসন্তান নেই; তিনি একমাত্র কন্যাসন্তান আমেনা খাতুনের জনক।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেমের একমাত্র কন্যা আমেনা খাতুন বলেন, “আমার বাবার আর কোনো সন্তান নেই। কতিপয় দুষ্কৃতকারীর সহায়তায় ভূয়া ওয়ারিশ ও পরিচয়পত্র তৈরি করে তারা আমার বাবার পরিচয় ব্যবহার করছে। আমি এই জালিয়াতির সুষ্ঠু বিচার ও শাস্তি চাই।”

এদিকে জাল নথিপত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে দাবি করেছেন অভিযুক্তরা। শিক্ষক আব্দুর রশিদ এবং সেনাসদস্য সালেহ আকরাম জানান, ছোটবেলা থেকে খালার বাড়িতে লালন-পালন হওয়ার কারণে তারা খালুর নাম ব্যবহার করেছেন এবং এতে দোষের কিছু দেখছেন না।

বিষয়টি সামনে আসার পর জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ জানান, ঘটনাটি সত্য হলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভূয়া পরিচয় দানকারী এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদ তৈরিতে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফটোকার্ড ডাউনলোড

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com