বিশেষ সংবাদদাতা
বিদ্যুৎ উৎপাদনে পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক, রাজনৈতিক ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে সারা দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ঋণ পরিশোধের চাপসহ ১২টি সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। জিইডি প্রণীত ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছরের পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামোতে এসব ঝুঁকি এবং তা উত্তরণের কৌশল তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের জ্বালানি খাতের বিদ্যমান সংকট প্রযুক্তিগত নয়, বরং দুর্বল সুশাসন ও নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতার ফসল, যার মাশুল দিচ্ছে সাধারণ জনগণ। পরিস্থিতি উত্তরণে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করতে ২৩টি আন্তর্জাতিক ড্রিলিং ঠিকাদার নিয়োগ এবং রূপপুরের ঋণ পরিশোধে রিজার্ভের চাপ সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় সুসংগঠিত পরিশোধ পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
জিইডির সদস্য (সচিব) ড. মঞ্জুর হোসেন এ বিষয়ে বলেন, “দেশের টেকসই উন্নয়ন, শিল্প প্রতিযোগিতা ও দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কৌশলগত কর্মকাঠামোর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।”
১২ ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের মূল পরিকল্পনা:
গ্যাস অনুসন্ধান ও এলএনজি: অভ্যন্তরীণ কূপে খনন ত্বরান্বিত করতে ২৩টি আন্তর্জাতিক ড্রিলিং ঠিকাদার নিয়োগ, বঙ্গোপসাগরে থ্রি-ডি সিসমিক জরিপ এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে ৮০ শতাংশ এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করা হবে।
রূপপুর ও রিজার্ভ সুরক্ষা: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মানদণ্ড অনুযায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিশেষ সমন্বয় করা হবে।
বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংস্কার: বিপিডিবির ক্ষতি কমাতে ত্রৈমাসিক শুল্ক যৌক্তিকীকরণ এবং অন্তত পাঁচটি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) পুনঃআলোচনা করা হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থায়ন: বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ত্রৈমাসিক সৌর নিলাম চালু, ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সবুজ বন্ড ইস্যু এবং ২৫০০ মেগাওয়াট ব্যাটারি স্টোরেজ স্থাপন করা হবে।
সাইবার ও জলবায়ু সুরক্ষা: সঞ্চালন ব্যবস্থার সুরক্ষায় বিশেষায়িত সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ-পরবর্তী জরুরি মেরামতের জন্য আলাদা তহবিল গঠন করা হবে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের বিকল্প নেই এবং কৌশলগত কাঠামোর উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দৃশ্যমান সুফল আসবে।