বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার বরাদ্দ দেয় সুরক্ষার জন্য, বালুদস্যুরা গ্রাস করে পৈতৃক সম্পত্তির মতো..! হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে, ১৬ই ডিসেম্বর উদ্বোধনের সম্ভাবনা নির্বাহী প্রকৌশলীর কেরামতি, দুর্নীতি ধুয়ে ৭ দিনেই ‘পবিত্র’ সিরাজগঞ্জে ডিপিএইচই-এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট: সময় ও খরচ বেড়েছে, অগ্রগতি আটকে আছে একই জায়গায় ‘এক কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই’, সেই অডিওতে ফেঁসে গেছেন পুলিশ কর্মকর্তা ডিপিএইচই: অবশেষে দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে পিডি তবিবর সাময়িক বরখাস্ত সারা দেশে ইন্টারনেট নিয়ে দুঃসংবাদ দিল বিএসসিসিএল শজনে ভেবে লাজনা খাচ্ছেন কি? দুটির পার্থক্য জেনে রাখুন অস্তিত্ব হারাতে বসেছে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯: বঞ্চিত তথ্য প্রত্যাশীরা হতাশ রাজশাহী মেডিকেলে আইসিইউর অপেক্ষায় এক মাসে ৯১ শিশুর মৃত্যু

ইরানে নিজেদের বিমান নিজেরাই ধ্বংস করে পালালো মার্কিন কমান্ডো

  • আপডেট সময় রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬.৫০ পিএম


আন্তর্জাতিক ডেস্ক॥



মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত মরুভূমিতে এবার মুখ থুবড়ে পড়ল মার্কিন দম্ভ। ইরানের আকাশসীমায় ঢুকে বীরত্ব দেখাতে গিয়ে চরম অপদস্থ হতে হলো বিশ্বের তথাকথিত একক পরাশক্তিকে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, নিজেদের অত্যাধুনিক এবং কোটি কোটি ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম শত্রু বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করতে না পেরে নিজেরাই তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রাণ নিয়ে পালিয়েছেন মার্কিন কমান্ডোরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সামরিক কৌশলের দুর্বলতা এবং মার্কিন বাহিনীর ভঙ্গুর অবস্থা এখন বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্ট।

ভয়াল সেই রাত

দাউদাউ করে জ্বলছে হারকিউলিস ও ব্ল্যাক হক ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ইরানের ইসফাহান অঞ্চলে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানকে ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করে। ওই বিমানের পাইলট ও ক্রু মেম্বারদের উদ্ধার করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক ভুল করতে থাকে। উদ্ধারকারী হিসেবে পাঠানো দুটি বিশাল সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান এবং একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার যান্ত্রিক ত্রুটি ও ইরানি বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে দুর্গম মরুভূমিতে আটকা পড়ে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে যখন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) চারপাশ থেকে ঘিরে ধরছিল, তখন মার্কিন কমান্ডাররা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। শত্রুহাতে আধুনিক প্রযুক্তি চলে যাওয়ার ভয়ে তারা নিজেরাই ডিনামাইট দিয়ে তাদের গর্বের বিমানগুলো উড়িয়ে দিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। আকাশে আধিপত্যের দাবি করা শক্তিটি এখন নিজের দেশের করদাতার টাকায় কেনা বিমান ধ্বংস করে লজ্জাজনকভাবে পশ্চাদপসরণ করছে।

৪৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস আতঙ্ক

একটি পিস্তল হাতে আত্মগোপন প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভূপাতিত বিমানের একজন ওয়েপন সিস্টেম অফিসার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে ইরানের মাটিতে যমের সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন। আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত হওয়ার কথা থাকলেও, সেই সময়ে তার সম্বল ছিল মাত্র একটি পিস্তল। শত শত স্পেশাল ফোর্স এবং ডজন ডজন যুদ্ধবিমান আকাশে ওড়ালেও একজন পাইলটকে উদ্ধার করতে আমেরিকার যে হিমশিম অবস্থা হয়েছে, তা তাদের গোয়েন্দা ও উদ্ধার অভিযানের দুর্বলতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। যদিও হোয়াইট হাউস থেকে সফল অভিযানের দাবি করা হচ্ছে, কিন্তু ভিডিওতে দেখা যাওয়া ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিমানের অংশ ভিন্ন কথা বলছে।

ইরানের বিশাল পুরস্কার ঘোষণা ও আমেরিকার নাস্তানাবুদ অবস্থা

অন্যদিকে, এই ঘটনায় ইরান এক ধাপ এগিয়ে আমেরিকার ক্ষততে নুনের ছিটা দিয়েছে। ইরানি স্টেট মিডিয়া এবংস্থানীয় গভর্নর ঘোষণা করেছেন, কোনো মার্কিন পাইলটকে জীবিত ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে পারলে ১০ বিলিয়ন তুমান বা প্রায় ৭৬ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। যা সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের উন্মাদনা তৈরি করেছে এবং মার্কিন সেনাদের জন্য ইরানের মাটিকে আরও বিষাক্ত করে তুলেছে। আল জাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, উদ্ধার অভিযান চলাকালীন প্রচণ্ড গোলাগুলি হয়েছে এবং মার্কিন সেনারা এখনো পুরোপুরি বিপদমুক্ত হতে পারেনি।

পরাক্রমের আড়ালে লুকানো দুর্বলতা

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার এই পরাজয় কেবল সরঞ্জাম হারানোর নয়, বরং এটি তাদের মনস্তাত্ত্বিক পরাজয়। ট্রাম্প প্রশাসন যখন দাবি করছে তারা ইরানের আকাশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে, ঠিক তখনই তাদের বিমান ভূপাতিত হওয়া এবং নিজেদের সম্পদ ধ্বংস করে পালিয়ে আসা প্রমাণ করে যে, আমেরিকার ‘সুপারপাওয়ার’ ইমেজ এখন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। ইরানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে মার্কিন ড্রোন ও বিমানগুলো এখন আর নিরাপদ নয়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com