স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর অলিগলি পেরিয়ে মূল সড়কেও অবাধে চলাচল করছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। সুনির্দিষ্ট আইন ও কোনো ধরনের লাইসেন্সিং ব্যবস্থা না থাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে এসব যানবাহনের দাপট। এতে করে রাজধানীতে প্রতিদিন তীব্র যানজটের পাশাপাশি বিঘ্নিত হচ্ছে সড়ক নিরাপত্তা, বাড়ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ ছাড়া এসব যানবাহনের অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের কারণে জাতীয় গ্রিড থেকে অপচয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ, সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব।
এমন পরিস্থিতিতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
অভিযানেও কমছে না উপদ্রব, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকরণ শুরু ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা জব্দ ও ডাম্পিং করলেও পুরোপুরি তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ জানায়, অনেক ক্ষেত্রে অভিযানের সময় স্থানীয় চক্র ও চালকেরা পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।
এদিকে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) কারিগরি সহায়তায় সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকার অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের সময় রাস্তার পাশের বিদ্যুতের খুঁটি থেকে নেওয়া তার, সকেট ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দের পাশাপাশি বেশ কিছু অটোরিকশা আটক করা হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, “অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে। সরকার এটি বন্ধ ও সুশৃঙ্খল করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। সেই অনুযায়ী আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে।”
আট জোনে ভাগ করার উদ্যোগ রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল রোধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
নির্দিষ্ট জোনভিত্তিক চলাচল: পুরো ঢাকাকে ৮টি ভৌগোলিক অঞ্চলে (জোন) ভাগ করা হবে। নির্দিষ্ট জোনের অনুমোদিত রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না।
ডিজিটাল সনাক্তকরণ ও ভিন্ন রং: প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ থাকবে। এ ছাড়া থাকবে কিউআর (QR) কোডযুক্ত ডিজিটাল নম্বর প্লেট। স্ক্যান করলেই চালক ও মালিকের পরিচয় ট্রাফিক পুলিশের কাছে দৃশ্যমান হবে।
সৌরবিদ্যুৎচালিত চার্জিং হাব: বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ বা অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ বন্ধ করতে বেসরকারি খাতে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎচালিত চার্জিং হাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, শহরের সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থার সক্ষমতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক রিকশার সীমা নির্ধারণ করে ডিজিটাল জোন ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা গেলে ঢাকার সড়কে ফের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।