বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
পরীক্ষা নয়, এবারও ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি এমন বিভেদ চললে শেখ হাসিনা তালি বাজাবেন : রিজভী আওয়ামী লীগ বিদেশ থেকে উঁকিঝুকিঁ দিচ্ছে, তৎপরতার মুরোদ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাজীপুরে ভূমি অফিসে ডিসি’র আকস্মিক অভিযান, চার কর্মকর্তা বরখাস্ত ছাগল–কাণ্ডের মতিউরের দুর্নীতি মামলার বিচার শুরু সম্মিলিত অংশগ্রহণেই পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী সমকামিতার অভিযোগ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধিতে কী আছে ক্ষেত থেকে ভোক্তা, কাঁচা মরিচের কেজিতে বেড়ে যাচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকা দুবাইয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বেনজীর নতুন ডিএজি-এএজিদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান অ্যাটর্নি জেনারেলের

শিক্ষক নাকি জুয়াড়ী? সিরাজগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ জুয়ার আড্ডায় পরিণত হওয়ার অভিযোগ

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৪.০৭ পিএম


স্টাফ রিপোর্টার:



অভিযোগ উঠেছে যে, সিরাজগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মহিদুল হাসানের নেতৃত্বে শিক্ষকদের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রদানের পরিবর্তে জেলার বৃহত্তম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে জুয়ার আঁখড়ায় পরিণত করেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক’-এ শিক্ষকদের জুয়া খেলার কিছু ছবি ভাইরাল হওয়ার পর এই ঘটনা নিয়ে নেটিজেন এবং সুশীল সমাজের সদস্যদের মধ্যেও ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী জানান যে, অধ্যক্ষ মহিদুল হাসানের নেতৃত্বে শিক্ষকদের একটি অংশ নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কলেজের কক্ষে টাকার বিনিময়ে তাস খেলায় (জুয়া) ব্যস্ত থাকে, যা কলেজের পড়াশোনার কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের এই অনৈতিক কার্যকলাপের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ফেসবুকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মহিদুল হাসান, সহকারী অধ্যাপক রিপন মিয়া, রাসেল বাবু খাজা, মাজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক রেজাউল হক, হযরত আলী এবং হাসিমুল ইসলাম বিপ্লব কলেজের একটি কক্ষে তাস খেলছিলেন।

যোগাযোগ করা হলে অধ্যক্ষ মহিদুল হাসান বুধবার কলেজের শিক্ষকদের জন্য তাস খেলাটিকে একটি ‘অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি অবৈধ নয়, বরং দাবা খেলার মতোই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈধ। আমরা আমাদের শিক্ষকদের জন্য কলেজে একটি খেলার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। কারণ শিক্ষকদের শরীর ও মনকে সুস্থ ও সবল রাখতে কলেজে অন্য কোনো খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণেই তাঁরা তাস খেলায় অংশ নিতে পারেন। শুধু তাই নয়, সকল নারী শিক্ষক ও ছাত্রীদেরও তাঁদের সঙ্গে তাস খেলার অনুমতি ও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।”

তার স্ত্রী ফেরদৌস আরাও এ খেলায় অংশ নেন বলে তিনি গর্ব করে বলেন। তবে তিনি টাকার বিনিময়ে তাস খেলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

অভিযোগগুলো ধামাচাপা দিতে এবং নিজেদের দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে, ফেসবুকের ছবিগুলো সম্পর্কে স্পষ্টীকরণের জন্য বুধবার (১০ জুন) অধ্যাপক এ কে এম রেজাউল হক স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে তারা দাবি করেছে যে, ছবিগুলো তাদের ‘আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতা’-র অংশ ছিল।

অভিভাবক ও সূশীল সমাজের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাস খেলাকে বৈধ দাবী করার অর্থ হলো ঐ অধ্যক্ষ ছাত্র সমাজ এবং জনগণকে তাস বা জুয়া খেলার প্রতি আগ্রহী করে তুলছেন। তারা বলেন এ ধরনের জুয়া আর ক্যাসিনোর মধ্যে কোন তফাৎ নেই। তাই তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com