স্টাফ রিপোর্টার॥
সকাল থেকে দুপুর গড়ালেও সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশা আর হিমেল উত্তরের বাতাসে প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে যমুনাপাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জ। চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
শীতের কারণে জেলার স্বাভাবিক জনজীবনে ছন্দপতন ঘটেছে। কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালকসহ খেটে খাওয়া মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্রের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ছবি: সংগৃহীত
জেলা শহরে একাধিক গরম কাপড় গায়ে দিয়ে শ্রমজীবী মানুষকে জীবিকার সন্ধানে বের হতে দেখা গেছে। তবে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় লোকসমাগম কম থাকায় অনেক রিকশাচালক শীতের কাপড় জড়িয়ে দাঁড়িয়ে বা বসে সময় কাটাচ্ছেন। শহরের বিপণিবিতানগুলোতেও ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বিক্রেতাদের জুবুথুবু অবস্থায় বসে থাকতে দেখা গেছে। তবে শীতের তীব্রতা বাড়ায় শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
রিকশাচালকরা জানান, সকাল থেকে কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসের কারণে শহরে মানুষ কম বের হচ্ছে। পেটের তাগিদে রিকশা নিয়ে বের হলেও যাত্রী মিলছে না, আয়-রোজগারও নেই বললেই চলে।
বাঘাবাড়ি আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, আজ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন।
অন্যদিকে তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি বলেন, কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের বাতাস বইতে থাকায় শীতের অনুভূতি আরও বেশি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ জানান, জেলা পর্যায়ে সাড়ে সাত হাজার কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় আলাদাভাবে ১ হাজার ৬৫০টি করে কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।