স্টাফ রিপোর্টার:
সিরাজগঞ্জ শহরে একদিন আগে এক কিশোর চক্রের হাতে এক কলেজ ছাত্রের নৃশংস হত্যার পর জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
সচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুল, কলেজ বা অন্য কোনও প্রয়োজনীয় কাজে বাড়ি থেকে বের হলে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভীত।
একটি ভিডিও ফুটেজ এবং পুলিশের বিবৃতি অনুসারে, বিকাল ৪:০০ টার দিকে শহরের ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির কাছে ১২ থেকে ১৫ জন কিশোরের একটি দল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে যাত্রী এবং স্থানীয় কলেজ ছাত্র আব্দুর রহমান রিয়াদকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ফেলে। এরপর, হামলাকারীরা সবার সামনে মাথা উঁচু করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ভুক্তভোগীকে শহরের এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সন্ধ্যা ৭:০০ টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয় যা জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং শহরের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত রিয়াদ সোয়াধনঘোড়া খানপাড়া এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে এবং শহরের ইসলামিয়া সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ বলেন, ঘটনার পর আমরা তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। নিহতের বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শহরের ধানবাঁধি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে আশিক, জামাল শেখের ছেলে সাকিব ইব্রাহিম এবং জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত এবং প্রচেষ্টা চলছে।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুনিদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছি। এছাড়াও, আরও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা এখন শহরে একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে, অনেক অভিভাবক তাদের স্কুল ও কলেজগামী শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।