স্টাফ রিপোর্টার॥
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনের মোট ৩৯ প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জনই জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ জন প্রার্থীর ভোটের সংখ্যা ৪ অঙ্কের ঘরেও পৌঁছাতে পারেনি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলার ৬টি আসনের ভোট গণনা শেষে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী তাঁর নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ১২.৫ শতাংশ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
ফলাফলে সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সদরের একাংশ) ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনই জামানত হারিয়েছেন। এরা হলেন, লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির জহরুল ইসলাম (২২৩৪ ভোট), ট্রাক প্রতীকে গণ অধিকার পরিষদের মল্লিকা খাতুন (১১৭০), কেটলি প্রতীকে নাগরিক ঐক্যের নাজমুস সাকিব (৩২১) ও ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সবুর (২৬৩)। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ২১৪। বিএনপি প্রার্থী সেলিম রেজা ১ লাখ ১৬ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ-২ আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই জামানত হারিয়েছেন। এরা হলেন, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মুহিব্বুল্লাহ (২১৬৭), মই প্রতীকে বাসদের আব্দুল্লাহ আল মামুন (৮৬৪), কাস্তে প্রতীকে সিপিবির আনোয়ার হোসেন (৭৬৯), ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের মাহফুজুর রহমান (৪১০) ও কলম প্রতীকে জনতার দলের সোহেল রানা (১৮১)। আসনটিতে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৬৬। বিএনপি প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ পুকু ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৮ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এরা হলেন, লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির ফজলুল হক (১৬৫৮) ও ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র ইলিয়াছ রেজা রবিন (১০০৬)। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৭টি। বিএনপি প্রার্থী ভিপি আয়নুল হক ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৩ জনের। তারা হলেন লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিল্টন প্রামানিক (১২১৩), হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুর রহমান (২২১৬) ও কাস্তে প্রতীকে সিপিবির আব্দুল হাকিম (৬৯)। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫টি। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন জামানত হারিয়েছেন। এরা হলেন, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুনাবী (৫৭৫৯), লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির আকবার হোসেন (১২২৪), কাস্তে প্রতীকে সিপিবির মতিয়ার রহমান (৩২৮) ও ট্রাক প্রতীকে গণ অধিকার পরিষদের ইউসুফ আলী (২৩৫)। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩টি। ধানের শীষ প্রতীকে আমিরুল ইসলাম খান আলীম ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী করেছেন সিরাজগঞ্জ-৬ আসনটিতে। এখানে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই জামানত হারিয়েছেন। এরা হলেন, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের মিসবা উদ্দিন (২৫৪০), মই প্রতীকে বাসদের আনোয়ার হোসেন (৩৭৫), প্রজাপতি প্রতীকে আমজনতার দলের আসাদুল হক (৬৪৯), লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোক্তার হোসেন (১০৬২), তারা প্রতীকে জেএসডির ইলোরা খাতুন (৮৮৪), ঈগল প্রতীকে এবি পার্টির আবু জাফর আনোয়ারুস সাদাত (২৬৮), মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোশারফ হোসেন শহিদুল (১১৩০), ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবির (৪২৭) ও হেলিকপ্টার প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ওয়াসেক ইকবাল খান মজলিশ (২৫২)। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৩৮৪। বিএনপি প্রার্থী ডক্টর এম এ মুহিত ১ লাখ ৭০ হাজার ১২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত নির্বাচন অফিসার মো. মশিউর রহমান বলেন, পরিপত্র অনুযায়ী প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের ১২.৫ শতাংশ অর্থাৎ ৮ ভাগের এক ভাগ না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সেই হিসেবে সিরাজগঞ্জের বিজয়ী ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছাড়া সবার মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়েছে।