রেহেনুমা তারান্নুম রিফাত:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শালুয়াভিটা বাজার এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) কর্তৃক নির্মিত নিম্নমানের কাঠামো ভেঙে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম সোমবার, ঘটনার পরদিনই এই কমিটি গঠন করেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদিকজামানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটিকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নজরান রউফ এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান।
সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এর আগে রবিবার বিকেলে করোনা মহামারী চলাকালীন সিরাজগঞ্জে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) কর্তৃক উল্লিখিত স্থানে নির্মিত নিম্নমানের কাঠামো ভেঙে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আরও দুই শিশু আহত হয়েছে।
নিহতরা হলেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চর শৈলাবাড়ি গ্রামের ফরিদুল ইসলাম শেখের ছেলে রায়হান শেখ (৬) এবং একই গ্রামের সজিব শেখের মেয়ে সুমি খাতুন (২)।
নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চর শৈলাবাড়ি গ্রামের চার শিশু কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন সিরাজগঞ্জের শালুয়াভিটা বাজারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) কর্তৃক নির্মিত ‘হাত ধোয়ার বেসিন’-এর পাশে খেলা করছিল।
কিন্তু, বেসিনের পরিত্যক্ত দেয়ালটি শিশুদের উপর ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় এবং আরও দুজন আহত হন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনা দেখে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেয়াল ও বেসিনের নিচ থেকে তাদের উদ্ধার করেন। পরে তারা চার শিশুকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রায়হান ও সুমি নামে দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আবির ও সানজিদা খাতুন নামে আরও দুইজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর সিরাজগঞ্জে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) নিম্নমানের নির্মাণ কাজের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ডিপিএইচই কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই এই মারাত্মক ঘটনাটি ঘটেছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ডিপিএইচইর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।