বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার বরাদ্দ দেয় সুরক্ষার জন্য, বালুদস্যুরা গ্রাস করে পৈতৃক সম্পত্তির মতো..! হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে, ১৬ই ডিসেম্বর উদ্বোধনের সম্ভাবনা নির্বাহী প্রকৌশলীর কেরামতি, দুর্নীতি ধুয়ে ৭ দিনেই ‘পবিত্র’ সিরাজগঞ্জে ডিপিএইচই-এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট: সময় ও খরচ বেড়েছে, অগ্রগতি আটকে আছে একই জায়গায় ‘এক কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই’, সেই অডিওতে ফেঁসে গেছেন পুলিশ কর্মকর্তা ডিপিএইচই: অবশেষে দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে পিডি তবিবর সাময়িক বরখাস্ত সারা দেশে ইন্টারনেট নিয়ে দুঃসংবাদ দিল বিএসসিসিএল শজনে ভেবে লাজনা খাচ্ছেন কি? দুটির পার্থক্য জেনে রাখুন অস্তিত্ব হারাতে বসেছে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯: বঞ্চিত তথ্য প্রত্যাশীরা হতাশ রাজশাহী মেডিকেলে আইসিইউর অপেক্ষায় এক মাসে ৯১ শিশুর মৃত্যু

সেতুর অভাবে দুর্ভোগে তিন উপজেলার বাসিন্দারা

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৩.২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত


স্টাফ রিপোর্টার॥



সংসদীয় আসন সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদরের চার ইউনিয়ন) এর সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামে ইছামতি নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তিন উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। স্বাধীনতার পর থেকে ভুক্তভোগী মানুষেরা ইছামতি নদীর ওপর ওই ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও অজ্ঞাত কারণে এখন পর্যন্ত নির্মিত হয়নি।

রবিবার সরেজমিন দেখা গেছে, নদীর ওপর অস্থায়ীভাবে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে একটি সাঁকো নির্মাণ করেছে এলাকার এক ব্যক্তি। তিনি টাকার বিনিময়ে মানুষজন পারাপার করেন।

তবে ওই সাঁকোর ওপর দিয়ে খালি রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল পারাপার হলেও মালামাল নিয়ে ওইসব পরিবহন যেতে পারে না।

ওই ঘাটের সাঁকো নির্মাতা রফিক মিয়া বলেন, ‘জন্মের পর থেকে এই ঘাট দিয়ে দেখছি হাজারো মানুষ চলাচল করে। বর্ষাকালে খেয়া নৌকায় পার হতে হয়। পাশের বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার খাটিয়ামারী, মথুরাপুর, কাশিয়াহাটা, বিষার দিয়ার, শালুয়াবাড়ীসহ আট থেকে দশ গ্রামের মানুষও পূর্বদিকে এই ঘাট ব্যবহার করে চলাচল করে।

বিখ্যাত রতনকান্দি হাটে আসতে তাদের এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। অথচ এখানে ব্রিজ নেই। তাই অস্থায়ী একটি সাঁকো তৈরি করে মানুষের যাতায়াতে সহযোগিতা করছি।’

ঘাটের নিকটেই এক সময় বাড়ি ছিল একডালা গ্রামের শহিদুল ইসলামের।

গত কয়েক বছর আগে ইছামতির ভাঙনের কবলে পড়লে তিনি সেখান থেকে নদীর পশ্চিম পাড়ে গিয়ে বাড়ি করেছেন। এ কারণে প্রতিদিনই তাকে আট থেকে দশবার এই ঘাট ব্যবহার করে চলাচল করতে হয়। তিনি বলেন, ‘বর্ষার সময় এবার কচুরিপানার চাপে অস্থায়ী সাঁকোটি দুবার করে উপড়ে গিয়েছিল। নৌকায় পারাপারেও সময় ও শ্রম অনেক বেশি লাগে। সব মিলে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

অশীতিপর বৃদ্ধ দবির মিয়া জানান, ‘অনেক ঝুঁকি নিয়ে ওই চার (সাঁকো) পার হয়ে এপার আসা লাগে।। দ্যাশে এত উন্নতি হইলো, কিন্তুক আমাগোরে এই ঘাটে একটা পাকা ব্রিজ হইলো না। মরার আগে হলেও এইহানে একটি পাকা ব্রিজ দেখতে চাই।’

ধুনটের খাটিয়ামারী গ্রামের আব্দুর রহিম জানান, রতনকান্দি হাট, একডালা হাট, সিরাজগঞ্জ সদর ও কাজিপুরের সাথে যোগাযোগের জন্যে কয়েক গ্রামের মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করে। কিন্তু বর্ষাকালে ফসলাদি নিয়ে নদী পারাপারে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া অনেক দুর্ঘটনাও ঘটেছে এই ঘাটে। একটি পাকা ব্রিজ হলে কষ্ট দূর হতো।

একডালা গ্রামের স্থানীয় মুরব্বি পামছা শেখ এবং চাঁন মিয়া বলেন, ‘আমাদের গ্রামের প্রায় দুইশ পরিবার ইছামতি নদীর পশ্চিমের চরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। সেখানে এখন স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা গড়ে উঠেছে। ছাত্রছাত্রীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়। একটি পাকা ব্রিজ এইখানে দরকার।’

সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান জানান, বিষয়টি জেনেছি। শিগগিরই সমীক্ষা চালানো হবে। এরপর বরাদ্দ সাপেক্ষে ঢালাই ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com