বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
পরীক্ষা নয়, এবারও ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি এমন বিভেদ চললে শেখ হাসিনা তালি বাজাবেন : রিজভী আওয়ামী লীগ বিদেশ থেকে উঁকিঝুকিঁ দিচ্ছে, তৎপরতার মুরোদ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাজীপুরে ভূমি অফিসে ডিসি’র আকস্মিক অভিযান, চার কর্মকর্তা বরখাস্ত ছাগল–কাণ্ডের মতিউরের দুর্নীতি মামলার বিচার শুরু সম্মিলিত অংশগ্রহণেই পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী সমকামিতার অভিযোগ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধিতে কী আছে ক্ষেত থেকে ভোক্তা, কাঁচা মরিচের কেজিতে বেড়ে যাচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকা দুবাইয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বেনজীর নতুন ডিএজি-এএজিদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান অ্যাটর্নি জেনারেলের

২০ হাজার হেক্টর জমিতে কচুরিপানা, দিশেহারা হালতি-চলনবিলের কৃষক

  • আপডেট সময় বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪.০৬ পিএম
নাটোরের চলন ও হালতি বিলে ২০ হাজার হেক্টর জমি কচুরিপানা অপসারণ করছেন কৃষকরা।


স্টাফ রিপোর্টার॥



বর্ষার পানি নামলেও নাটোরের চলন ও হালতি বিলে ২০ হাজার হেক্টর জমি কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে। জেলার সিংড়া ও নলডাঙ্গার এই কচুরিপানা পরিষ্কার করতে প্রতি বিঘায় কৃষককে খরচ হচ্ছে বাড়তি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। এতে বোরো ধান উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কৃষকদের।

কৃষি বিভাগ বলছে, চলনবিলের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বিল উন্নয়নে সমীক্ষা চলমান রয়েছে।

সূত্র জানায়, চলনবিলের নাটোরের সিংড়া উপজেলার অংশে ও নলডাঙ্গা উপজেলার হালতিবিলের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে এভাবে জমে আছে কচুরিপানা। বিল দুটির জমিগুলো বোরো ধান আবাদের জন্য প্রস্তুত করতে কচুরিপানা সরাতে কৃষক শ্রমিক ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিছু স্থানে কচুরিপানা সড়িয়ে বীজতলা তৈরি করছেন কৃষকরা।

প্রতিবছর বর্ষায় দুটি বিলে কচুরিপানা দেখা গেলেও চলতি বছর সর্বোচ্চ কচুরিপানা এসেছে। প্রতিবিঘা জমির কচুরিপানা অপসারণ করতে দিনে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক লাগে। এতে কৃষকদের ব্যয় হচ্ছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। জমি প্রস্তুতের আগেই বিঘাপ্রতি এই অতিরিক্ত খরচের কারণে বোরো মৌসুমের আবাদে লোকসানের আশংকা করছেন কৃষকরা।

কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘পানি দেরিতে নামায় চলনবিলে বোরো মৌসুমে ধান ছাড়া অন্য ফসল হচ্ছে না। এই কচুরিপানা সড়াতে বিঘাপতি খরচ হচ্ছে ৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া সেচ খরচ, সার বীজসহ বিঘাপতি তাদের খরচ আসবে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। আর বিঘা প্রতি ২৫ মণ ধান পাবেন তারা। এতে করে লাভ দেখতে পাচ্ছেন না তারা।’

কৃষক শামীম বলেন, ‘প্রতিবছর কচুরিপানা দেখা গেলেও এবার সর্বোচ্চ কচুরিপানা এসেছে। জমিগুলো দিন দিন চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে উঠছে; অথচ সরকারের কোনো সংস্থাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।’

কৃষকদের দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় কৃষিবিভাগ বলছে, বর্ষায় বিল দুটির পানি প্রবাহ না থাকায় এই পরিস্থিতি হয়েছে। ফলে কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিলে কিছুটা পানি থাকতেই কচুরিপানা অপসারণ করতে হবে। পানি শুকিয়ে আসলে এমনটা করতে খরচ ও পরিশ্রম বাড়বে।’

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিম জানান, চলনবিল ও হালতি বিলের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতর চলতি বছর সমীক্ষা শুরু করেছে। আগামী বছর তাদের সুপারিশে সরকারের বিভিন্ন দফতর বিল দুটিকে আগের অবস্থায় ফেরাতে কাজ শুরু করবে।

এবারের বোরো মৌসুমে সিংড়া ও নলডাঙ্গা উপজেলায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com