স্টাফ রিপোর্টার॥
সিরাজগঞ্জের বালু সম্রাট খ্যাত হাজী আব্দুস সাত্তার এখন কোথায়, এমন প্রশ্ন প্রায়ই লোকমুখে শোনা যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের পদধারী এই বালু ব্যবসায়ী বর্তমানে আত্মগোপনে থাকলেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করে পর্দার আড়াল থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে তার বিশাল বালুর সম্রাজ্য। জেলার পাঁচটি বালু মহালের সবগুলোই এখন পর্যন্ত তার দখল ও নিয়ন্ত্রণে। যদিও কাগজ কলমে জেলায় বালমহালের সংখ্যা ৫টি, কিন্তু বালু উত্তোলনের মহোত্তসব চলছে পুরো যমুনা জুড়ে। ফলে ক্রমাগত নদী ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ। ভাঙ্গন ঝুঁকিতে পড়ছে যমুনা সেতুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কিন্তু দেখার কেউ নেই।

ছবি সংগৃহীত
বালু সাত্তারের একক সাম্রাজ্যের শুরুটা হয় সাবেক শ্রমিক নেতা নাসির হত্যার মাধ্যমে। এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামীও ছিলেন তিনি। তবে জেল খাটতে হয়নি তাকে। প্রায় দু’কোটি টাকার বিনিময়ে মামলার বাদীর সাথে আপোষ মিমাংসা করে নিজেকে আইনের হাত থেকে রক্ষা করে নেন এই সুচতুর বালু ব্যবসায়ী। সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আমলে তিনি ১০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে দুর্দান্ত দাপটের সাথে একের পর এক সাম্রাজ্য বিস্তার করেছেন। সিরাজগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনীতির একটা বড় অংশ চলতো তার টাকায়, এমন গুজব রয়েছে শহর জুড়ে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ রাজত্বের সময় তিনি আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন সর্ব মহলে।
স্থানীয়রা বলছেন, এখন পর্যন্ত তিনিই সিরাজগঞ্জের সমগ্র বালু মহালের একক নিয়ন্ত্রক। শুধু সিরাজগঞ্জই নয়, পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল জেলাতেও রয়েছে তার বালুর একাধিক পয়েন্ট। যমুনা জুড়ে রয়েছে শতশত বালু উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার ও বাল্কহেড। নামে বেনামে অসংখ্য বালুবাহী ট্রাক।
আব্দুস সাত্তার সিরাজগঞ্জ শহরের ১০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং ১০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। হজ্জ্ব করে এসে নামের পূর্ব হাজী শব্দটি যোগ করে তিনি হাজী আব্দুস সাত্তার বনে যান। তবে খুব অল্প সংখ্যক লোক তাকে হাজী আব্দুস সাত্তার নামে ডাকেন। জেলার অধিকাংশ লোকজনের কাছে তিনি বালু সাত্তার নামেই পরিচিত ।
৫ আগষ্ট ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ায় সাথে সাথে হাজী আব্দুস সাত্তার ওরফে বালু সাত্তার আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে টাকার বিনিময়ে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ম্যানেজ করে রাতারাতি বিএনপির দলে মিশে যান। এমনকি নিজের বালু মহালের বিশাল সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের কমিশন দিয়ে সাব-লিজের নামে এখন পর্যন্ত নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছনে ব্যবসা। পর্দার আড়াল থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন বিশাল সাম্রাজ্য। দিনে তার দেখা না মিললেও রাতে মাঝে মধ্যেই তাকে তার ডেরায় দেখা যায় বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
সূত্র মতে, আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পূর্বে তিনি দান-খয়রাত ও লোকজনকে খাওয়ানোর ফটো সেশন করে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন রাজনৈতিক অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য। এতে সচেতন নাগরিকদের ধারণা তিনি পূর্বের অপকর্ম ঢাকতে এবং আওয়ামী লীগের বড় কোন পদ বাগাতে লোক দেখানো প্রচারণা চালিয়ে থাকতে পারেন। এ ব্যাপারে তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্ট করলে তার পূর্বে ব্যবহৃত ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।