রেহেন্নুমা তারান্নুম রিফাত:
যদিও সিরাজগঞ্জে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অধীনে মল-কাদা ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণ প্রকল্পের সময় ও খরচ উভয়ই আবারও বেড়েছে, কিন্তু শুরু থেকে প্রকল্পটির কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি, যা বর্ধিত সময়ের পরেও এর সমাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে সিরাজগঞ্জের ডিপিএইচই-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান বলেন, “পৌর কর্তৃপক্ষের ফেলা বর্জ্য অপসারণ করতে গত কয়েক মাস কেটে গেছে। এ কারণেই এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি নজরে আসছে না।”

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান
প্রকৃতপক্ষে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর অ্যান্ড কোং এবং সিরাজগঞ্জের ডিপিএইচই-এর কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না, কারণ ঢাকা-ভিত্তিক একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, মেসার্স নূর অ্যান্ড কোং, তাদের উপ-ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজটি করছে। ফলে প্রয়োজনীয় তদারকির অভাব রয়েছে, এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে কোন প্রকার মাথাও নেই বলে অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, কিছুদিন পর বিলম্বের দাবিকে ন্যায্যতা দিতে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা (যুদ্ধ)-এর মতো আরেকটি অজুহাত যোগ করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি)-এর আর্থিক সহায়তায় “বাংলাদেশের ১০টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শহরে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমন্বিত স্যানিটেশন ও হাইজিন প্রকল্প” শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। ডিপিএইচই-এর তত্ত্বাবধানে, সরকার সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের উপকণ্ঠে বনবাড়িয়া এলাকায় ১ নং মল কাঁদা এবং ১ নং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট/সিস্টেম নির্মাণের জন্য ১৩,১৮,৯৯,২৯৬ টাকা অনুমোদন দেয়। ডিপিএইচই ঢাকা-ভিত্তিক নির্মাণ সংস্থা মেসার্স নূর অ্যান্ড কোং-কে কাজের আদেশ দেয়, যারা গত ১ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে কাজ শুরু করে।
যদিও প্রকল্পটি পৌরসভা এলাকায় বাস্তবায়নের নির্দেশনা ছিল, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে প্রকল্পের স্থান পৌরসভার বাইরে ইউনিয়ন পর্যায়ে (বনবাড়িয়া ইউনিয়ন) নির্ধারণ করা হয়।
প্রকল্পের শুরু থেকেই নির্মাণ সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে নির্মাণকাজ কচ্ছপের গতিতে চলছে। এর আগে ১৭ জানুয়ারি দ্য ডেইলি স্কাই “আইএসডিবি-অর্থায়িত ডিপিএইচই প্রকল্প সিরাজগঞ্জে কচ্ছপের গতিতে চলছে” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সেই সময়ে (গত জানুয়ারিতে দ্য ডেইলি স্কাই-এর প্রথম প্রতিবেদনের সময়কালে), সিরাজগঞ্জের ডিপিএইচই-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (ইই) রোকনুজ্জামান প্রকল্পের কাজে ৪০ শতাংশ অগ্রগতির দাবি করেছিলেন এবং সম্প্রতি তিনি একইভাবে ৬০ শতাংশ অগ্রগতির দাবি করেছেন। কিন্তু, অননুমোদিত সূত্র দাবি করেছে যে, সার্বিক অগ্রগতি ১৫-২০ শতাংশের বেশি হবে না।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আগের সময়ের তুলনায় প্রকল্পের কাজে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি চোখে পড়েনি। এমনকি নির্মাণস্থলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নির্মাণ সরঞ্জামেরও উপস্থিতি ছিল না।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রোকন বলেন, “স্থানীয় পৌরসভার ফেলা আবর্জনা সরাতে প্রায় ছয় মাস লেগে গেছে। এ কারণে প্রকল্প এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।”

ফাইল ফটো
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত শেষ করার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। সময় বাড়ানোর ফলে প্রকল্পটি শেষ করতে ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, ঠিকাদার সিরাজগঞ্জ-কড্ডা সড়কের পাশে একটি গেট ওয়াল নির্মাণ করেন এবং প্রকল্প এলাকায় একটি অফিস রুমসহ কয়েকটি অস্থায়ী কাঠামো স্থাপন করেন। কিন্তু, অযত্নের কারণে বেশিরভাগ কাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুটি পায়খানার দরজা চোরেরা ভেঙে নিয়ে গেছে।