বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার বরাদ্দ দেয় সুরক্ষার জন্য, বালুদস্যুরা গ্রাস করে পৈতৃক সম্পত্তির মতো..! হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে, ১৬ই ডিসেম্বর উদ্বোধনের সম্ভাবনা নির্বাহী প্রকৌশলীর কেরামতি, দুর্নীতি ধুয়ে ৭ দিনেই ‘পবিত্র’ সিরাজগঞ্জে ডিপিএইচই-এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট: সময় ও খরচ বেড়েছে, অগ্রগতি আটকে আছে একই জায়গায় ‘এক কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই’, সেই অডিওতে ফেঁসে গেছেন পুলিশ কর্মকর্তা ডিপিএইচই: অবশেষে দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে পিডি তবিবর সাময়িক বরখাস্ত সারা দেশে ইন্টারনেট নিয়ে দুঃসংবাদ দিল বিএসসিসিএল শজনে ভেবে লাজনা খাচ্ছেন কি? দুটির পার্থক্য জেনে রাখুন অস্তিত্ব হারাতে বসেছে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯: বঞ্চিত তথ্য প্রত্যাশীরা হতাশ রাজশাহী মেডিকেলে আইসিইউর অপেক্ষায় এক মাসে ৯১ শিশুর মৃত্যু

সরকার বরাদ্দ দেয় সুরক্ষার জন্য, বালুদস্যুরা গ্রাস করে পৈতৃক সম্পত্তির মতো..!

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৬.২২ পিএম
বালু সাত্তার ওরফে হাজী সাত্তার



৫টি বালুমহলের আড়ালে যমুনা জুড়ে অদৃশ্য সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বালু সাত্তার



বিশেষ প্রতিনিধি:



সংবাদ প্রতিবেদন বা অভিযোগ কোনো কাজে আসে না, কারণ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনও তার অদৃশ্য শক্তির কাছে জিম্মি। শুধু তাই নয়, কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলেই সেই দলের নেতা-কর্মী, এমনকি সংশ্লিষ্ট সাংসদ ও মন্ত্রীরাও রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেলেন এবং পরোক্ষভাবে বালুদস্যুদের সমর্থন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফলে কাজে আসছে না কোটি কোটি টাকার অনেক সরকারি প্রকল্প। সব প্রচেষ্টা বিলীন হয়ে যাচ্ছে যমুনার জলে। আর বালুদস্যুদের ভরছে পকেট। সিরাজগঞ্জে বছরের পর বছর ধরে এই পরিস্থিতিই বিরাজ করছে।
সম্প্রতি সিরাজগঞ্জে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদী তীরবর্তী সংরক্ষণ এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই ভাঙন শুষ্ক মৌসুমেও তীব্র আকার ধারণ করে, বিশেষ করে কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
যদিও সরকার যমুনা নদীর পাঁচটি স্থান বালুমহল হিসেবে ইজারা দিয়েছে, বালুদস্যুরা প্রতি রাতে বিভিন্ন স্থান থেকে বালু তুলে নদী তীরকে ঝুঁকিতে ফেলছে। পাঁচটি বৈধ বালুমহল হলো: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কৈগারি দরতা, জিয়ারপাড়া ও চন্দলবয়রা, কাজিপুর উপজেলার কাজিপুর বালুমহল এবং শাহজাদপুর উপজেলার শিমলা বালুমহল। স্থানীয়রা জানান, উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বালুদস্যুরা গ্রেপ্তার, জরিমানা এবং আইনি জটিলতা এড়াতে কয়েকদিন পর পর তাদের বালু তোলার স্থান পরিবর্তন করে এবং রাতের বেলায় বালু উত্তোলন করে।
ভাঙন-আক্রান্ত এলাকা এবং বর্তমান পরিস্থিতি:
কাজিপুর উপজেলা: শুষ্ক মৌসুমে ছোট ও মাঝারি আকারের ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীগর্ভে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে পানির তীব্র স্রোত সরাসরি তীরে আছড়ে পড়ছে, যার কারণে পলাশপুর ঘাট, ইকো পার্ক, মেঘাই ঘাট ও ঢেকুরিয়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে কাজীপুর উপজেলার মেছরা এলাকা থেকে, যা তফসিলি বালুমহলের বাইরেও অবস্থিত, অন্তত ১৫-২০টি ছোট আকারের ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
শাহজাদপুর উপজেলা: উপজেলার আরকান্দি-ঘাটবাড়ি, বিনোটিয়া, মাজ্জান ও নারিনা এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শত শত বাড়ি ও ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বেলকুচি উপজেলা: যমুনা নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বেলকুচি সদর ইউনিয়ন ও এনায়েতপুর এলাকার বেশ কিছু অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং আরও অনেক বসতবাড়ি ও স্থাপনা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া, অসংখ্য বালুবাহী বাল্কহেডের চলাচল নদী তীর এবং এনায়েতপুর এলাকায় দেশের বৃহত্তম খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে উপজেলার খিদ্রমাটিয়া ও মেঘুল্লা এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে।
চৌহালী উপজেলা: গত কয়েক মাসে জোতপাড়া, উমরপুর ও ঘোরজান এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও শত শত বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে এবং বালু উত্তোলনের একই কারণে আরও অনেক জমি নদীর হুমকির মুখে পড়েছে। বেলকুচি-চৌহালী আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলিম গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভাঙন-আক্রান্ত জোতপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেছেন।
ভাঙনের প্রধান কারণসমূহ:-
নদীর তলদেশে গর্ত সৃষ্টি: যথেচ্ছভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যা পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করে নদীকে তীরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
নদীর পাড় রক্ষার কাজে ক্ষতি: অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পানির স্রোত সরাসরি পশ্চিম তীরের পাড় রক্ষাকারী বাঁধে আঘাত হানছে, যার ফলে পাড় ও স্থাপনাগুলো ধসে পড়ছে।
নদীর গতিপথ পরিবর্তন: স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, অপরিকল্পিতভাবে যথেচ্ছা বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হচ্ছে, যা নদীর পাড়কে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ক্রমাগত নদীভাঙনের কারণে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে কে আছেন:
বালুমহাল ইজারা আইন (আনুষ্ঠানিকভাবে বালু উত্তোলন ও মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০) বাংলাদেশে নদী ও সরকারি জমি থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন এবং বাণিজ্যিক ইজারা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে, নদীভাঙন প্রতিরোধ করে এবং অবৈধ উত্তোলনের জন্য শাস্তির বিধান করে।
মূল বিধানাবলী এবং ইজারা বিধিমালা:
ইজারা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ: ভূমি মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসক (ডিসি) বালুমহাল ঘোষণা এবং উন্মুক্ত গণ-নিলামের মাধ্যমে ইজারা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনগত কর্তৃপক্ষ হিসেবে গণ্য হবেন।
এই প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসন উপজেলা প্রশাসন এবং বালুমহল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহযোগিতায় বালু উত্তোলন ও মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী তার এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বালুমহাল ইজারা দিতে সক্ষম হবেন।
বালুচর চিহ্নিতকরণ ও ঘোষণার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক, ধারা ৯-এর উপধারা (২)-এর বিধান সাপেক্ষে নিম্নোক্ত পদ্ধতিসমূহ অনুসরণ করবেন:-
(ক) সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজস্ব কর্মকর্তার পরিদর্শনের পর ট্রেস ম্যাপ এবং সময়সূচীসহ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন।
(খ) নদী-বন্দরের সীমার বাইরে নির্ধারিত জলপথে যেখানে বালু বা মাটি পাওয়া যাবে, সেখানে বিআইডব্লিউটিএ (ইওডঞঅ)-এর মাধ্যমে একটি হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনা করবেন এবং একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিবেদন সংগ্রহ করবেন। তবে, কোনো গ্রহণযোগ্য কারণে বিআইডব্লিউটিএ (ইওডঞঅ) কর্তৃক জরিপ পরিচালনা করা সম্ভব না হলে, পানি উন্নয়ন বোর্ড বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা জরিপটি সম্পন্ন করবে।
ইজারার মেয়াদ: ইজারাগুলো বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে বৈশাখ মাসের ১ তারিখ থেকে চৈত্র মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত এক বছরের জন্য বৈধ থাকে।
বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা: সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, রেললাইন এবং আবাসিক এলাকাসহ সংবেদনশীল অবকাঠামোর এক কিলোমিটারের মধ্যে ড্রেজিং বা বালু উত্তোলন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও জনগণের দুর্ভোগ:
বাস্তবে তদন্তকালে জানা গেছে যে, বালুমহাল ঘোষণা এবং ইজারা দেওয়ার আগে নিয়মকানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
আরটিআই (RTI) এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিসি অফিসে যমুনা নদীর হাইড্রোগ্রাফিক বা বাথিমেট্রিক জরিপের কোনো নির্ভরযোগ্য রেকর্ড নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে বিধান অনুসরণ না করেই যমুনা নদীর পাঁচটি পয়েন্টকে বালুমহাল হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং এর সবগুলোই এবার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ইজারা দিয়েছেন।
ফলে, একমাত্র ইজারাদার তার স্থানীয় প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে জামালপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলাস্থ যমুনা নদীর বিভিন্ন অংশ দখল করে নিয়েছে এবং দিনের পর দিন অননুমোদিত ড্রেজার ব্যবহার করে নদীগর্ভ থেকে ইচ্ছেমত বালু উত্তোলন করে চলেছে।
আর সেই বালু শতশত বাল্কহেডের মাধ্যমে বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যার ফলে প্রবল ঢেউয়ে নদী গর্ভের ও তীরের মাটি সরে যাচ্ছে এবং বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে, যা বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভাঙনের কারণ হচ্ছে। নদীর স্রোতে ভেসে যাচ্ছে নদী তীর, অগণিত মানুষের ফসলী জমি ও বাড়িঘর। ঘরবাড়ি হারানো মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় আশ্রয় নিচ্ছে। অন্যদিকে, বালুদস্যুরা প্রশাসনের সামনেই কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। ফলে ভাঙন রোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, সরকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ডব্লিউডিবি) মাধ্যমে নদী তীর, ঘরবাড়ি ও নদীর তীরের অন্যান্য স্থাপনা রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করে। তবে বাথিমেট্রিক বা হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ছাড়াই যমুনা নদীতে বালিয়াড়ি ঘোষণা এবং প্রায় সব জায়গা থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পানি বৃদ্ধি এবং কমার সময় যমুনা নদীর ভাঙন মারাত্মক রূপ নেয়।
এই বালু উত্তোলনের পেছনে কারা রয়েছে:
একটু গভীরে তাকালে দেখা যাবে যে, এই বালু লুটের উৎসবটি শাসক রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা ও কর্মীরাই চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও গভীরভাবে দেখলে, স্থানীয় সাংসদদের অদৃশ্য ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাবে। তাদের ভাষায়, রাজনীতি করতে হলে কর্মী ও ক্যাডার পুষতে হয়।
এর বাইরে আরও গভীরে গেলে বালু সাত্তার ওরফে হাজী সাত্তার ওরফে বালুদস্যু খ্যাত সাত্তার নামে এক বালু সম্রাটের নাম আসে, যিনি পর্দার আড়াল থেকে পুরো সিন্ডিকেটকে (রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা) নিয়ন্ত্রণ করছেন। বালু উত্তোলন ও পরিবহনের জন্য তিনিই বালু তোলার ড্রেজার, বাল্কহেড এবং ট্রাকের মতো সমস্ত সরঞ্জাম সরবরাহ করে থাকেন। তিনি দেশের বৃহত্তম ডেভেলপার যেমন ঠিকাদার এবং রিয়েল-এস্টেট কোম্পানিগুলোর সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রেখে এই বালুর ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
জানা গেছে, কাজিপুর উপজেলায় যমুনা নদীর অন্তত: ৪০টি পয়েন্ট থেকে এখন বালু বিক্রি হচ্ছে। মেছড়া এলাকাসহ বিভিন্ন অননুমোদিত স্থান থেকে এই বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন এবং শত শত বাল্কহেডের মাধ্যমে তা বহন করার সময় নদীর তলদেশ ও তীর উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে, বর্ষাকালে বালুবোঝাই ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে পাকা ও আধা-পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অবৈধ বালু উত্তোলনের পেছনে কারা রয়েছে তা জানতে অনুসন্ধান করলে বালু সাত্তার এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নাম বারবার উঠে আসে।
কাজিপুরের মতো বেলকুচি, চৌহালী এবং শাহজাদপুরেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং বালুদস্যু সাত্তারের নাম উঠে আসে। এক্ষেত্রে সাত্তারের নাম রয়েছে সর্বত্রই।
কে এই সত্তার?
সিরাজগঞ্জ শহরের কাছে মতি শাহেবরঘাট এলাকার একসময়ের শ্রমিকনেতা সত্তার এখন স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বালির ব্যবসা করে কোটিপতি তথা একাধিক বাড়ি, গাড়ি, রিসোর্ট ও ডকইয়ার্ডের মালিক হয়েছেন। শুধু তাই নয়, টাকার বিনিময়ে তিনি সমাজকর্মীও সেজেছেন। বর্তমানে তিনি আগামী পৌরসভা নির্বাচনে নিজেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। কতিপয় মিডিয়া কর্মীর সহযোগিতা নিয়ে এবং সোস্যাল মিডিয়াতে স্বঘোষিত মানবতার ফেরিওয়ালা সেজে বিভিন্ন লোক দেখানো কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। যা সমাজে জন্ম দিচ্ছে নানা প্রশ্ন। তিনি নিজেকে দানশীল, দানবীর ও মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচয় দিলেও প্রকৃতপক্ষে তার বৈধ আয় এবং ভ্যাট-ট্যাক্স প্রদানের সঠিক হিসেব সরকারের কারো দপ্তরেই নেই। যে কারণে অনেকেই দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করে থাকেন তার এই হঠাৎ উত্থান সম্পর্কে জানতে।
বাস শ্রমিক নেতা নাসির হত্যা মামলারও প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন সত্তার। ২০১২ সালের ২ সেপ্টেম্বর যমুনার বালুমহাল দখলের দাবিতে এক হামলায় শ্রমিক নেতা নাসির উদ্দিন নিহত হন। পাঁচ দিন পর, হামলায় আহত তার শ্যালক শাকিল আহমেদ টিক্কা হাসপাতালে মারা যান। পরবর্তীতে সমঝোতার মাধ্যমে হত্যা মামলাটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয়:

বিএনপি সরকারের আমলে শ্রমিক নেতা থেকে সত্তার বিএনপি নেতা হন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ৫ আগস্টের পর তিনি গা ঢাকা দেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর তিনি ফিরে এসে নিজেকে বিএনপির লোক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এখন তিনি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শহরের অলিগলিতে নিজের নামে প্লাষ্টিক প্যানা, পোষ্টার এবং বিলবোর্ড লাগিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ডব্লিউবিডি) কর্তৃপক্ষের মন্তব্য:
সিরাজগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও-টেক্সটাইল ও বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে।”
বালি উত্তোলন বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বিভ্রান্ত হয়ে বলেন, “এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে চিঠি পাঠিয়েছি। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা বা অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই।”

জেলা প্রশাসকের বক্তব্য:

সিরাজগঞ্জের ডিসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “আপনি যদি আমাকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের নির্দিষ্ট স্থানের তালিকা দেন, তাহলে আমি ব্যবস্থা নেব। কারণ, তফসিলি বালুমহালের বাইরে থেকে বালি উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই।”
বালু সাত্তার সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “লোকেরা হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে সাত্তারের নাম ব্যবহার করে থাকতে পারে।”
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সাত্তারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com