বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষক নাকি জুয়াড়ী? সিরাজগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ জুয়ার আড্ডায় পরিণত হওয়ার অভিযোগ পুলিশও জানে না মহাসড়কে এগুলো বৈধ না অবৈধ? সরকার বরাদ্দ দেয় সুরক্ষার জন্য, বালুদস্যুরা গ্রাস করে পৈতৃক সম্পত্তির মতো..! হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে, ১৬ই ডিসেম্বর উদ্বোধনের সম্ভাবনা নির্বাহী প্রকৌশলীর কেরামতি, দুর্নীতি ধুয়ে ৭ দিনেই ‘পবিত্র’ সিরাজগঞ্জে ডিপিএইচই-এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট: সময় ও খরচ বেড়েছে, অগ্রগতি আটকে আছে একই জায়গায় ‘এক কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই’, সেই অডিওতে ফেঁসে গেছেন পুলিশ কর্মকর্তা ডিপিএইচই: অবশেষে দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে পিডি তবিবর সাময়িক বরখাস্ত সারা দেশে ইন্টারনেট নিয়ে দুঃসংবাদ দিল বিএসসিসিএল শজনে ভেবে লাজনা খাচ্ছেন কি? দুটির পার্থক্য জেনে রাখুন

শিক্ষক নাকি জুয়াড়ী? সিরাজগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ জুয়ার আড্ডায় পরিণত হওয়ার অভিযোগ

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৪.০৭ পিএম


স্টাফ রিপোর্টার:



অভিযোগ উঠেছে যে, সিরাজগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মহিদুল হাসানের নেতৃত্বে শিক্ষকদের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রদানের পরিবর্তে জেলার বৃহত্তম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে জুয়ার আঁখড়ায় পরিণত করেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক’-এ শিক্ষকদের জুয়া খেলার কিছু ছবি ভাইরাল হওয়ার পর এই ঘটনা নিয়ে নেটিজেন এবং সুশীল সমাজের সদস্যদের মধ্যেও ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী জানান যে, অধ্যক্ষ মহিদুল হাসানের নেতৃত্বে শিক্ষকদের একটি অংশ নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কলেজের কক্ষে টাকার বিনিময়ে তাস খেলায় (জুয়া) ব্যস্ত থাকে, যা কলেজের পড়াশোনার কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের এই অনৈতিক কার্যকলাপের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ফেসবুকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মহিদুল হাসান, সহকারী অধ্যাপক রিপন মিয়া, রাসেল বাবু খাজা, মাজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক রেজাউল হক, হযরত আলী এবং হাসিমুল ইসলাম বিপ্লব কলেজের একটি কক্ষে তাস খেলছিলেন।

যোগাযোগ করা হলে অধ্যক্ষ মহিদুল হাসান বুধবার কলেজের শিক্ষকদের জন্য তাস খেলাটিকে একটি ‘অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি অবৈধ নয়, বরং দাবা খেলার মতোই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈধ। আমরা আমাদের শিক্ষকদের জন্য কলেজে একটি খেলার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। কারণ শিক্ষকদের শরীর ও মনকে সুস্থ ও সবল রাখতে কলেজে অন্য কোনো খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণেই তাঁরা তাস খেলায় অংশ নিতে পারেন। শুধু তাই নয়, সকল নারী শিক্ষক ও ছাত্রীদেরও তাঁদের সঙ্গে তাস খেলার অনুমতি ও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।”

তার স্ত্রী ফেরদৌস আরাও এ খেলায় অংশ নেন বলে তিনি গর্ব করে বলেন। তবে তিনি টাকার বিনিময়ে তাস খেলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

অভিযোগগুলো ধামাচাপা দিতে এবং নিজেদের দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে, ফেসবুকের ছবিগুলো সম্পর্কে স্পষ্টীকরণের জন্য বুধবার (১০ জুন) অধ্যাপক এ কে এম রেজাউল হক স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে তারা দাবি করেছে যে, ছবিগুলো তাদের ‘আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতা’-র অংশ ছিল।

অভিভাবক ও সূশীল সমাজের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাস খেলাকে বৈধ দাবী করার অর্থ হলো ঐ অধ্যক্ষ ছাত্র সমাজ এবং জনগণকে তাস বা জুয়া খেলার প্রতি আগ্রহী করে তুলছেন। তারা বলেন এ ধরনের জুয়া আর ক্যাসিনোর মধ্যে কোন তফাৎ নেই। তাই তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com