নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে তিন বছর আগে নিখোঁজ হওয়া অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. আশরাফুল ইসলামকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই নিখোঁজ ও হত্যা রহস্য উদঘাটন করে মূল আসামি মো. রফিকুল ইসলামকে (৫৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত ১২ আগস্ট ২০২৬ দুপুরে সিআইডির সিরাজগঞ্জ জেলা ইউনিট শাহজাদপুর থানাধীন জামিরতা বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। সিআইডির নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল স্বীকার করে যে, ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে সে আশরাফুলকে পরিকল্পিতভাবে যমুনা নদীর পানিতে ফেলে হত্যা করেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় রফিকুল মুঠোফোনে ডেকে আশরাফুলকে বাড়ি থেকে জামিরতা বাজারে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আশরাফুল নিখোঁজ থাকে। এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. নাছিমা খাতুন ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর বিজ্ঞ আদালতে তিনজনকে আসামি করে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত মামলাটির তদন্ত ভার সিআইডি সিরাজগঞ্জের ওপর ন্যস্ত করেন।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোনালিসা বেগম (পিপিএম)-এর সার্বিক নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মো. আজমল হোসেন গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় রফিকুলের সম্পৃক্ততা চিহ্নিত করেন। পরবর্তীতে মামলাটি নিয়মিত এফআইআর হিসেবে রুজু করে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর রফিকুল জানায়, আশরাফুলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ শারীরিক সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে আশরাফুল তার অন্য বন্ধুদের নিয়ে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছে জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে রফিকুল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটের কথা বলে সে কৌশল করে আশরাফুলকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় এবং আশরাফুল অচেতন হয়ে পড়লে তাকে যমুনা নদীতে ফেলে দেয়। পরে স্রোতে ভেসে যায় আশরাফুলের মরদেহ। আসামি ইতোমধ্যেই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
সিআইডি আরও জানায়, আসামি রফিকুলের অতীতেও এমন অপরাধের ইতিহাস রয়েছে। ২০১৫ সালে অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরে অন্য এক যুবকের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার অপরাধে বিচারে তার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের রহস্য প্রকাশ পেলেও ভিকটিম আশরাফুলের মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মরদেহ উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।