পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
তরমুজ পটুয়াখালীর অন্যতম অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। ২০০০ সালের পর থেকে অঞ্চলটিতে তরমুজ আবাদ শুরু হলেও ২০১২-১৪ সালের পরই এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হয়ে আসছে। ভালো ফলন ও লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই ফলটির আবাদ বাড়ছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে জেলায় ১৪ হাজার ২৩৬ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবাদি জমি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৩২৬ হেক্টরে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব প্রস্তুত না হলেও আবাদি জমি ও উৎপাদনের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা কৃষি কর্মকর্তাদের।
চাষীরা বলছেন, মৌসুম শুরুর আগেই ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে আগাম তরমুজ চাষে নেমেছেন পটুয়াখালীর কৃষকরা। জেলার কলাপাড়া, গলাচিপা, বাউফল, দুমকী, রাঙ্গাবালী ও সদর উপজেলার উপকূলীয় চর ও বেলে মাটিতে এখন চারা রোপণ ও খেত পরিচর্যায় তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
দুমকী উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের হানিফ শরীফ বলেন, ‘তিন বছর ধরে তরমুজের চাষ করছি। গত বছর ১০ একর এবং এ বছর ১২ একর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছি। একটু আগাম চাষ শুরু করেছি, যাতে সঠিক সময়ে লাভের মুখ দেখা যায়। তবে কৃষি অফিস থেকে আমাকে বীজ দেয়নি। শুধু ৩৫ কেজি সার পেয়েছি, যা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য।’
সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বলইকাঠী গ্রামের খোকন হাওলাদার জানান, ছয় বছর ধরে তরমুজ আবাদ করছেন তিনি। প্রথম দিকে প্রায় দেড় একর জমি থেকে আবাদ শুরু করলেও এখন সাড়ে পাঁচ একর জমিতে আবাদ করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে তরমুজ চাষ লাভজনক। তবে তিনি কখনো সরকারি সুবিধা পাননি। আগাম চাষ করলে দামটাও ভালো পাওয়া যায় এবং ঝড়-বৃষ্টি থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে জেলায় তরমুজ উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬০ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৮২০, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১০ লাখ ৬ হাজার ৭৫ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮ হাজার টনে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩২ টন।
আগাম তরমুজ চাষে জমিতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচর্যা এবং রোগবালাই দমনে সতর্কতা জরুরি। আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ ও মাঠপর্যায়ে পরামর্শ নেয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় চাষীরা আগাম তরমুজ চাষ শুরু করেছেন। সারের কোনো সংকট নেই। বীজের মান ভালো হওয়ায় এ বছর ফলনও ভালো হবে।’