স্টাফ রিপোর্টার॥
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি গভীর নলকূপের দুইটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ই আগস্ট (বৃহস্পতিবার) গভীর রাতে উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের সড়াতৈল গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নানের সেচ প্রকল্প থেকে ট্রান্সফরমার দুইটি চুরি হয়ে যায়। এই ঘটনায় প্রায় তিন লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক। আসন্ন বোরো মৌসুমের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার।
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, গভীর রাতে সেচ প্রকল্পের অবস্থা দেখতে বাড়ি থেকে বের হলে চোরেরা তার উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে লাগানো তিনটি ট্রান্সফরমারের মধ্যে দুইটি গায়েব। চোরচক্র শুধু ট্রান্সফরমারই নয়, এর ভেতরের মূল্যবান তামার তার ও তেল নিয়ে গেছে, আর ফেলে রেখে গেছে লোহার খোলস। তিনি আরও বলেন, অনেক কষ্ট করে এই সেচ প্রকল্পটি চালু করেছিলাম। এখন সবকিছু হারিয়ে আমি নিঃস্ব। সামনে বোরো আবাদ। কীভাবে জমিতে পানি দেব, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসছে না। এই চুরির ফলে তার প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রায় ৫০ বিঘা জমির সেচ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
এই চুরির ঘটনা শুধু কৃষক আব্দুল মান্নানের একার নয়, এটি সিরাজগঞ্জ তথা সারা দেশের কৃষকদের জন্য এক ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায়শই বিভিন্ন এলাকা থেকে সেচ প্রকল্পের ট্রান্সফরমার চুরির খবর পাওয়া যায়। সংঘবদ্ধ চোরচক্র রাতের অন্ধকারে এসব ট্রান্সফরমার চুরি করে কৃষকদের সর্বস্বান্ত করছে। এর ফলে একদিকে যেমন কৃষকরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সেচের অভাবে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশের কৃষি অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি শুনেছি, তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তবে কৃষকরা বলছেন, অভিযোগ করেও অনেক সময় কোনো সুফল মেলে না, চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার উদ্ধার হয় না। তারা এই সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এবং গ্রামীণ এলাকায় রাত্রী কালীন পুলিশি টহল জোরদার করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।