বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার বরাদ্দ দেয় সুরক্ষার জন্য, বালুদস্যুরা গ্রাস করে পৈতৃক সম্পত্তির মতো..! হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে, ১৬ই ডিসেম্বর উদ্বোধনের সম্ভাবনা নির্বাহী প্রকৌশলীর কেরামতি, দুর্নীতি ধুয়ে ৭ দিনেই ‘পবিত্র’ সিরাজগঞ্জে ডিপিএইচই-এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট: সময় ও খরচ বেড়েছে, অগ্রগতি আটকে আছে একই জায়গায় ‘এক কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই’, সেই অডিওতে ফেঁসে গেছেন পুলিশ কর্মকর্তা ডিপিএইচই: অবশেষে দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে পিডি তবিবর সাময়িক বরখাস্ত সারা দেশে ইন্টারনেট নিয়ে দুঃসংবাদ দিল বিএসসিসিএল শজনে ভেবে লাজনা খাচ্ছেন কি? দুটির পার্থক্য জেনে রাখুন অস্তিত্ব হারাতে বসেছে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯: বঞ্চিত তথ্য প্রত্যাশীরা হতাশ রাজশাহী মেডিকেলে আইসিইউর অপেক্ষায় এক মাসে ৯১ শিশুর মৃত্যু

কৃষকের হাতে টাকা নেই, ঘামে ফলানো ফসলের বিনিময়ে মিলছে সেচের পানি

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩.৫৯ পিএম
জমিতে সেচ দেওয়ার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত


স্টাফ রিপোর্টার॥



সিরাজগঞ্জের রোপা আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। এ মৌসুমে সব এলাকাতেই সেচ মেশিনে জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। সেচ মেশিন মালিকেরা জমিতে পানি সেচ বাবদ ধানের সিকি ভাগ কিংবা চার ভাগের এক ভাগ নেওয়ার চুক্তি করেছেন বলে কৃষক ও সেচ মালিকেরা জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার কৃষকরা জমিতে সেচের খরচ বাবদ টাকার পরিবর্তে ফসলের ভাগ দিতে আগ্রহী বেশি । কেননা ইরি আবাদে মৌসুমে কৃষকদের হাতে নগদ টাকা থাকে না । তারা ধার দেনা করে কোন মতে জমি চাষ করে। সেই সঙ্গে জমিতে সেচ বাবদ নগদ টাকা দেওয়া তাদের কাছে ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঘামে ফলানো ফসল দিয়েই পানির মূল্য পরিশোধে আগ্রহ প্রকাশ করছেন তারা।

জেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, এবারের মৌসুমে জেলায় মোট ৭৫ হাজার  হেক্টর পরিমাণ জমিতে রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এখনও অনেক মাঠে কৃষকরা রোপা আমন ধানের চারা লাগাচ্ছেন। জেলার উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ উপজেলায় বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করা হচ্ছে। কৃষকরা বেশি হারে ফলন মেলে এমন সব জাতের চারা জমিতে লাগিয়েছেন। কোনো কোনো এলাকায় বেশিরভাগ মাঠে আগাম জাতের  রোপা আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। এখন সেসব জমিতে আগাছা নিড়ানি দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, রোপা আমন জমিতে সেচ মেশিনে পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে। এ সময় স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন সেচনির্ভর রোপা আমন জমিতে পানি কম লাগে। একবার বৃষ্টি হলে অন্তত সপ্তাহখানেক জমিতে পানির দরকার হয় না। সেচ মেশিন মালিকেরা রোপা আমন ধানের জমিতে পানি সেচ বাবদ ফসলের সিকি ভাগ, নয়তো চার ভাগের এক ভাগ নেবেন বলে মৌখিক চুক্তি করে পানি সেচ দিচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার  দিঘলকান্দি গ্রামের কৃষক মনজুর রহমান বলেন, রোপা আমন ধানের জমিতে কয়েকটি অগভীর সেচ মেশিনে চাহিদামতো পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে। পানি সেচের খরচ বাবদ আমরা ফসলের চারভাগের একভাগ মেশিন (সেচ মালিক)-কে  দেই । এতে আমাদের নগদ টাকা দিতে হয় না । ফসল কেটে তারপর সেচের দাম পরিশোধ করি।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বেলুটিয়া গ্রামের সেচ মেশিন মালিক হরমুজ আলী বলেন, আমার সেচ মেশিনে প্রায় ১শ বিঘা জমিতে পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে। ওই জমির ফসলের চার ভাগের এক ভাগ নেওয়ার চুক্তিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, অনেকে বলে পানির মূল্য ফসলের চার ভাগের এক ভাগ নেওয়ায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা পুরো মৌসুম জমিতে পানি দেই। কিন্তু ভাগ দেওয়ার সময় আমাদের জন্য নিম্ন ফলনের যে  ফসল, সেটিই রেখে যায় কৃষকরা । এছাড়া কোনো কারণে জমির ফসল না হলেও আমরা কোনো আলাদা খরচ নিই না। বিদ্যুতের দাম বাড়লে আমাদের ভাগ বাড়েনি।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সের গুপ্ত জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সেচের বিনিময়ে  কৃষকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে । যে কারণে আমরা সেচের বিনিময়ে কৃষকদের নগদ টাকা দেওয়ার কথা বলি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 The Daily Sky
Theme Developed BY ThemesBazar.Com